Feminism is cancer, রুহুল কবির

(পর্ব ৩…)

৮. নারীবাদীরা যে একেবারেই তাদের বাচ্চাকাচ্চাদেরকে ছেড়েছুড়ে দিয়ে ক্যারিয়ার সামলাতে চলে যায়, তা না। কিছু নারীবাদী তাদের সন্তানকে লালন-পালনও করে। তারা তাদের সন্তানকে মানুষের মত ‘মানুষ’ করে গড়ে তোলে। তবে তাদের মানুষ করার পদ্ধতি একটু আলাদা।

বিখ্যাত একটি নারীবাদী পোর্টালে সন্তানকে মানুষ করার পদ্ধতি নিয়ে একটা লেখা পেলাম। সেখানে এক নারীবাদী দেখিয়েছেন, নারীবাদী চিন্তাধারাকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরে কিভাবে সন্তানকে মানুষ বানানো যায়।

তার ভাষ্যমতে—

“এখন আমার ছেলের বয়স তিন বছর। আমি ওকে সব রঙ পরাই। গোলাপি, লাল, কমলা, বেগুনি সব। বরং চেষ্টা করি যেন নীল কিছু কিনতে না হয়। ‘ছেলেদের রঙ নীল’ এ কথা যেন ওর জীবনে প্রতিষ্ঠিত না হয়” [১০]

এই বক্তব্য শুনেই প্রাথমিক ধাক্কাটা খাই। ছেলেদের রঙ নীল মানে? ছেলেদের কোনটা নীল? চুল? চামড়া? মন? পছন্দ? ক্যামনে কী!!

তাছাড়া, একটা বাচ্চা কোন রঙ পছন্দ করবে, কোনটা পছন্দ করবে না, সেটা তার নিজের ব্যাপার। আপনারা, মানে নারীবাদীরা যে মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন; তাহলে নিজের ছেলের ক্ষেত্রে সামান্য একটা রঙ পছন্দ করার স্বাধীনতাও তাকে দিবেন না?

“আমার ছেলের বেশিরভাগ খেলনা উপহার পাওয়া। যেহেতু ও ছেলে, তাই কেউ ওকে হাড়িপাতিলের সেট কিনে দেয়না। কিন্তু আমি দিয়েছি। গোলাপি রঙের চমৎকার একটি হাড়িপাতিলের সেট। সেই সেট নিয়ে সে খেলা করে চুলার উপর হাড়ি বসিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে রান্না করে, মিছামিছি রান্না করা সেই খাবার বা চা আমাদের পরিবেশন করে। আমরাও মিছামিছি খেয়ে ওকে উৎসাহ দিই।”

“খেলনা পুতুলকে নিজের বেবী পরিচয় দেয় সে। তাদের ঘুম পাড়ায়, খাওয়ায়। আমরা কখনও বাধা দিই না। কারণ ও দেখেছে যে, ওকে ফিডার বানিয়ে খাওয়ায় ওর বাবা, ওকে ভাত খাওয়ায় ওর বাবা। তাই এসব ওর জন্য অস্বাভাবিক কিছু না।”

পুতুল নিয়ে খেলাধূলা আমরাও ছোটবেলায় করেছি। আমরাও মিছামিছি হাড়িপাতিল নিয়ে রান্না করতাম। কিন্তু আমাদের বাবা মায়েরা এভাবে আমাদের মধ্যে মাতৃসুলভ আচরণ ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেননি। তারা আমাদের খেলাধূলাকেও মেনে নিয়েছেন, পাশাপাশি পৌরুষ বৃদ্ধির কাজও করিয়েছেন।

আমাদের সাথে যারা খেলাধূলা করেছে, সবাই যে মানুষের মত মানুষ হতে পেরেছে, তা কিন্তু না। সুতরাং, এই নারীবাদী যখন ভেবে নিচ্ছে যে, ছেলে হয়ে হাড়িপাতিল-পুতুল নিয়ে খেললেই সে মানুষ হয়ে যাবে, এটা তার ইল্যুশন ছাড়া আর কিছুই না।

তিনি তার লেখার মধ্যে একাধিকবার উদ্ধৃত করেছেন— আমার ছেলেকে ‘পুরুষ’ নয়, মানুষ করে গড়ে তুলছি।
পুরুষ হলে মানুষ হওয়া যাবেনা কিংবা মানুষ হতে গেলে পুরুষত্বকে বিসর্জন দিতে হবে— এরকম কোনো মন-মানসিকতা নিয়ে উনারা ঘোরাফেরা করেন কিনা সেটাই এখন প্রশ্ন!

উনার লেখা পড়ে মনে হয়েছে, তুমি যদি মানুষ হতে চাও তবে তোমার আচরণে মেয়েলি আচরণও থাকতে হবে, পুরুষালি আচরণও থাকতে হবে। মানে, কিছুটা ট্রান্সজেন্ডার টাইপের।

অথচ, একটা ছেলের সাইকোলজি, এবং একটা মেয়ের সাইকোলজি সম্পূর্ণ আলাদা। ছেলে এবং মেয়ের মেন্টাল গ্রোথ-ও ভিন্ন ধাঁচের। ছেলেকে ছেলেদের মত আর মেয়েকে মেয়েদের মত করে বেড়ে ওঠার সুযোগ না দিয়ে একের মধ্যে অন্যের সন্নিবেশ ঘটাতে গেলে শরীরের সাথে মানসিক অবস্থার অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

তাছাড়া, পুরুষের মত করে বেড়ে উঠলেও কিন্ত ‘মানুষ’ হওয়া যায়। মানুষ বানানোর জন্য পুতুল-হাড়িপাতিল নিয়ে খেলাধূলা করানোটা কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক বা যুক্তিসম্মত পদ্ধতি নয়। মানুষ হওয়ার জন্য দরকার মনুষ্যত্ব। আর মনুষ্যত্ব অর্জনের জন্য চাই সুশিক্ষা এবং তার যথোপযুক্ত প্রয়োগ।

আশপাশের কিশোরদের আচরণ, বাচনভঙ্গি, চলনবলন দেখে তিনি বলেছেন, “এইটুকু এইটুকু ছেলেদের মধ্যে আমি যে প্রবল পৌরুষ দেখেছি, তাতে রীতিমত আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ি আমি। বারবার এটা ভেবে বিচলিত হই যে, সমাজের পুরুষদের জন্য যে সুবিধা ছড়ানো আছে, তার ভেতর আমার সন্তানটিকে আমি মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো তো?”

এই যে, এই বক্তব্য! এটা দিয়েই বুঝা যায় যে, পুরুষ হলে কেউ মানুষ হতে পারবে না।

এরকম আরও অনেক হাস্যকর কথাবার্তা তিনি লিখেছেন। তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজে রুটি বানাতে পারেন না। তাই ছেলেকে বুয়ার কাছে বসিয়ে দেন, রুটি বানানো শেখান; ছেলে তাকে রুটি বানিয়ে খাওয়াবে। তিনি দামড়া হয়ে রুটি বানানো শিখতে না পারলেও বাচ্চাটাকে তা শেখাচ্ছেন। ব্যাপারটা মন্দ না!

একটা ছবিতে দেখলাম, বাচ্চাটার মুখে মেকাপ দিয়ে, মাথায় ফুল গুঁজে রেখেছে। এইসব ছেলেপেলেরাই আর কয়েক বছর পর বায়না ধরবে, “আম্মু আমার পিরিয়ড হয়না কেন, আমার পিরিয়ড এনে দাও, এক্ষুনি দাও!!”

এদেরকে বাইরে থেকে দেখলে ছেলে-ই মনে হবে, কিন্তু এদের মন-মানসিকতা থাকে মেয়েলি, কারণ এদেরকে ওইভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে। এরা সাংসারিক কাজকর্ম শিখবে ঠিকই, কিন্তু বাহ্যিক পুরুষালি কাজকর্ম করতে পারবে না। ভারী কাজকর্ম করতে বললে এরা দৌড়ে পালাবে, “উফফ নো! এগুলো আমি পারব না, আমাকে ছেড়ে দাও!”

আল্লামা মামুনুল হকের একটা বয়ানে বাঘ আর ছাগল নিয়ে একটা গল্প শুনেছিলাম। এক কৃষক ছাগল চরাচ্ছিলেন, এমন সময় কুত্থেকে বাঘের ছোট্ট একটা বাচ্চা চলে এলো। সে ভাবলো, বাচ্চা তো! নিয়ে যাই।

তারপর সে বাঘের বাচ্চাটাকে নিয়ে ছাগলের বাচ্চার সাথে রেখে পালতে লাগলো। ছাগলের বাচ্চার যখন একটু একটু শিং উঠতে শুরু করে, তখন সে যারে পায় তারেই গুতানি দেয়। তো, বাঘ আর ছাগল যেহেতু একসাথে থাকে, বাঘের গায়েও দুই একটা গুতানি লাগে। এতে বাঘের রাগ হয়, সেও গুতানি দিতে যায়। কিন্তু তার তো শিং নেই। গুতাতে গেলে সে নিজেই উল্টা ব্যাথা পায়। এই নিয়ে তার মনে খুব কষ্ট, সে শুধু গুতানি খেয়েই গেল, গুতাতে পারলো না।

অথচ বাঘ হিসেবে তার কেমন আচরণ করা উচিত এটা সে জানেই না। সে এক হুঙ্কার দিলেই যে ছাগলের বাচ্চা তার বাপ-দাদা নিয়ে দৌড়ানি দিবে, এই ‘বোধ’ তার মধ্যে নেই। কেন নেই? কারণ তাকে বড় করা হয়েছে ছাগলের মত করে। সে বাঘের সাথে ঘুরার সুযোগ পায়নি, তাই বাঘসুলভ আচরণের বদলে তার মধ্যে শোভা পেয়েছে ছাগুসুলভ আচরণ।

ঠিক তেমনি, ছেলেকে ছেলের মত বাড়তে না দিলে তার মধ্যেও শোভা পাবে নারীসুলভ আচরণ। তার রুচি, চেতনা, অনুভূতি সবকিছুর মধ্যে মেয়েলিপনা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।

যাইহোক! প্যারেন্টিংয়ের জন্য কেউ কোনো নারীবাদীকে ফলো না করলেই হলো। অ্যাটলিস্ট কিছু ছেলে ট্রান্সজেন্ডার হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

৯. কাক একবার ময়ূরের মত নাচ শিখতে গিয়ে নিজেই হাটা ভুলে গিয়েছিল। বর্তমানে গোঁড়া নারীবাদীদের অবস্থা হয়েছে সেরকম।

এরা মনে করে, নারী হয়ে জন্মানোটা তার অন্যায় হয়ে গেছে। কিংবা নারী হয়েছে বলে সে তার ‘প্রাপ্য’ অধিকার পাবে না। তাই এরা পুরুষের বেশ ধরতে যায়। এরা ভাবে, বেশভূষায় পুরুষের অনুকরণ করলেই বুঝি তাদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা সহজ হয়ে যাবে।

এজন্য এরা কী করে? ছেলেদের প্যান্ট, জামা, টিশার্ট এগুলো পরে বাহ্যিকভাবে পুরুষ সাজতে যায়। অধিকাংশ নারীবাদী মাথার চুল ছোট রাখে, ছেলেদের মত। তারা মনে করে, মাথার চুল বড় হয়ে গেলে তাকে মেয়েমেয়ে মনে হবে, কিন্তু তা তো হতে দেওয়া যাবে না। তাকে হতে হবে পুরুষ! তারা নিজের ভেতর থেকে নারীত্বকে ছুড়ে ফেলে দিতে চায়। এজন্যই বলি— নারীবাদ মানে নারী থেকে নারীত্বকে বাদ দেওয়া।

হাদীসে বর্ণিত তিন ক্যাটেগরীর মানুষ যারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না, তাদের মধ্যে এক ক্যাটেগরী হলো তারা যারে অপর লিঙ্গের বেশভূষা ধারণ করে। সে ছেলে হয়ে মেয়ের বেশভূষা হোক বা মেয়ে হয়ে ছেলের।

কিন্তু এদেরকে এগুলো বুঝাতে গেলে এরা বলবে—
ইট’স মাই চয়েজ!
মাই বডি, মাই চয়েজ!

১০. নারীবাদ হলো হিপোক্রিসির ডিব্বা।

যখন কোথাও নারী ধ্বর্ষণের খবর পাওয়া যায় তখন এরা বিচ্ছুর মত কামড়াতে ছুতে আসে। কিন্তু কোথাও নারী কর্তৃক পুরুষের হয়রানীর স্বীকার হওয়ার ঘটনা ঘটলে এরা হয় গর্তবাসী। মোস্ট রিসেন্টলি একটা ঘটনা ঘটেছে। এক মেয়ে একজন বৃদ্ধার উপর নির্যাতন করছিল। একটা লোক সেটার প্রতিবাদ করতে যায়। এতে মেয়েটা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ফলে ওই মেয়ে কী করলো, সেই লোকটার অণ্ডকোষ চেপে ধরলো, এবং তৎক্ষণাৎ লোকটির মৃত্যু হল। [১১]

এই ঘটনা নিয়েও অনেক নারীবাদীকে উল্লাস করতে দেখা গেছে। (ছবি কমেন্টে)

পুরুষ বিদ্বেষ বর্তমানে এত প্রবল হয়ে উঠেছে যে, পুরুষদেরকে দুনিয়া থেকে একেবারে ‘নাই’ করে দিতে পারলেই নারীবাদীদের শান্তি। সম্প্রতি হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘kill_all_men’ লিখে নারীবাদীদের এমন অনেক প্রচারণাই দেখা যাচ্ছে। এক মহিলা প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর স্ক্যান করতে যাওয়ার আগে বলছে- এটা মেয়ে নাকি অ্যাবোরশন সেটা জানতে যাচ্ছি। বোঝেন অবস্থা! আরবের আইয়্যামে জাহিলিয়্যাতে মেয়ে হলেই মাটিতে পুতে ফেলা হত, আর একুশ শতকের জাহিলিয়্যাতে গর্ভের বাচ্চাটা ছেলে, এটুকু জানতে পারলেই হচ্ছে; জন্ম পর্যন্ত যাওয়া লাগবে না, তার আগেই টয়লেটে ফ্ল্যাশ মেরে দেওয়া হচ্ছে। (ছবি কমেন্টে)

অশ্লীল পোষাক পরার বিরোধীতা করলে এদের বক্তব্যঃ
— মেয়েরা যা খুশি তাই পরে হাটবে
— মেয়েদের স্বাধীনতা আছে
— তাদের অধিকার আছে
— তারা যা ইচ্ছা তাই পরিধান করে হাটবে, তুমি বিচার করার কে?
— মেয়েটার খুশি হয়েছে তাই এমন পোষাক পরেছে, তোমার না তাকালেও চলবে।

অথচ কাউকে বোরকা-নিকাব পরতে দেখলে এদের বক্তব্যঃ
— আরেহ দ্যাখো, মেয়েটা কী পরেছে, মুখটাও দেখা যায়না
— পুরাই তো আলখাল্লা
— খোঁজ নিয়ে দেখ কোনো দলের সাথে যোগ দিয়েছে মনে হয়
— বিয়ের অনুষ্ঠানে কেউ বোরকা পরে? আবার মুখও ঢেকে রেখেছে।
— পুরাই আনস্মার্ট, ক্ষ্যাত!

আজ্ঞে হ্যাঁ, তারা নারী-স্বাধীনতায় বিশ্বাসী! নারী (পর্দা বাদে) যাখুশি পরবে।

কিছুদিন আগে একটা ঘটনা ভাইরাল হয়েছিল। নারী অধিকার ও নারী মুক্তির অগ্রদূত অ্যানি কর্তৃক নিজ গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনাটা। অনেকেই দেখেছেন হয়ত।

এদের আচরণটা এরকমই। এরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলবে— নারী নির্যাতন বন্ধ করো, নারীর অধিকার দিতেই হবে, নারীকে ঘরে বন্দী রাখা চলবে নাআআ চলবে না!!

অথচ এই এরাই ঘরের গৃহকর্মী নারীদেরকে অত্যাচার-নির্যাতন করে। এরাই অধিনস্ত নারীদেরকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এই ঘটনা সুস্পষ্ট করে বলে দেয়, নারীবাদীরা নারীর অধিকার আদায়ের জন্য আদৌ কাজ করে না। তারা নারীদেরকে ব্যাবহার করে কেবলই স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য।

কোথাও নারী নির্যাতিত হলে এদেরকে সরকারের কাছে বিচারের দাবী জানাতে দেখা যায়না, দেখা যায় শাহবাগে জড় হয়ে ব্যানার হাতে নিয়ে পুরুষ-বিদ্বেষ ছড়াতে। এরা মূলত নারী নির্যাতনের বিচার চায় না, এরা চায় নারীদের মনে পুরুষের প্রতি ঘৃণার বীজ বুনতে যেন নারীরা সহজেই ঘর ছেড়ে বাইরে চলে আসে। এতে তাদের লাভ হলো- যত বেশি নারী ঘর ছেড়ে রাস্তায় আসবে, তত বেশি নারী লিপ্ত হতে পারবে তাদের আব্বা ‘কর্পোরেটোক্রেসির’ গোলামিতে। কর্পোরেটোক্রেসি যে ফেমিনিস্টদের দ্বারা নারীদেরকে ভুলিয়েভালিয়ে রাস্তায় এনে তাদেরকে দিয়ে কামলা খাটিয়ে নিজের পকেট ভর্তি করে নিতে চায়, এটা তার আরেকটা প্রমাণ।

সত্যিই যদি নারীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নারীবাদীদের থাকতো তাহলে এরা আন্দোলন করে নারী নির্যাতকের বিচার কার্যকর করাতে পারতো, আন্দোলন করে ডজনখানেক ধ্বর্ষককেও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলাতে পারতো। কিন্তু না, এদেরকে এসব করতে দেখা যায়না। এরা কী করে? কোথাও ধ্বর্ষণের খবর শুনলে এরা জনকতক একটা ব্যানার নিয়ে জড়ো হবে শাহবাগে, তারপর পুরুষবিদ্বেষ ছড়াতে থাকবে। এদের সীমাহীন ডাবলস্ট্যান্ডার্ড লিখে শেষ করা অসম্ভব।

(চলবে……)

.

[১০] http://feministfactor.com/1427/
[১১] https://tinyurl.com/yaujvrnk

লেখকঃ Ruhul Kabir

Feminism is Cancer , রুহুল কবির

১ম পর্বের পর থেকে……(২য় পর্ব)


৬. একদা…. সাদিয়া জাহান প্রভার একটা নাটক দেখেছিলাম। নাটকের নাম ‘পারফর্মার’। এর ঘটনাটা বলছি—

সে হচ্ছে একজন অভিনেত্রী। সে যখনই কোনো চরিত্রে অভিনয় করে তখন ঐ চরিত্রটা নিজের মধ্যে ধারণ করে নেয়, যাতে অভিনয়ের সময় খুব সহজে কাজটা ফুটিয়ে তুলতে পারে।

এক পর্যায়ে তার কাছে একটা কাজের অফার আসে। পতিতার বায়োগ্রাফি নিয়ে। যেহেতু তাকে পতিতার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, সেহেতু সে ভাবে পতিতাদের জীবনটা তাকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, তাদের মন-মানসিকতা কেমন সেটা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। তাহলেই সে অভিনয়টাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। চলে যায় দৌলতদিয়া পতিতালয়ে। সেখানে এক পতিতার ঘরে একসাথে থাকতে শুরু করে। যখন কোনো কাস্টোমার আসে তখন সে ঘরের বাইরে চলে যায়, কাস্টোমার বিদায় হলে ঘরে ঢোকে।

পতিতারা কিভাবে কাস্টোমারদের সাথে দরদাম করে সেটা পর্যবেক্ষণ করে একদিন সে নিজেও তা প্র্যাক্টিস করতে যায়। কিন্তু পূর্বে এমনটা করার অভিজ্ঞতা না থাকায় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।

এই নাটকের একটা দৃশ্যে দেখানো হয়— উক্ত পতিতা প্রভার সাথে গল্প করার এক পর্যায়ে বলছে, ‘আমার এই বাচ্চাটা যে ওর বাপের না অন্যকারো সেইডা আমি জানিনা। না জানলাম তাতে কী হইছে? কিয়ামতের দিন তো সন্তানগো মা’র নাম ধইরাই ডাকবো।’

বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই! এটা শোনার জন্য আমি একদমই প্রস্তুত ছিলাম না।

নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে পতিতার জীবনের মাহাত্ম্য (!) তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন গৃহিনীকে গৃহকর্তার ভরসায় বসে থাকতে হয়, একজন পতিতাকে তা করতে হয়না। একজন গৃহিনী স্বাবলম্বী নয়, একজন পতিতা স্বাবলম্বী। মোদ্দাকথা, পতিতাবৃত্তি যে খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়, এই জিনিসটাই ওই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।

নাটকের একদম শেষ পর্যায়ে প্রভা ওই পতিতালয়েই থেকে যেতে চায়, কারণ তার কাছে এ জীবনটা খুব উপভোগ্য (!) মনে হয়েছে। একজন পতিতার জীবনযাত্রা তার কাছে খুব আদর্শ ও অনুকরণীয় মনে হয়েছে।

এই নাটক দেখার পরে আমি এর ডিরেক্টরকে খুঁজতে লাগলাম। যেটা পেলাম, তিনি একজন মুসলিম নামধারী নারীবাদী। অতঃপর আশ্বস্ত হলাম, একজন নারীবাদী-ই পারে পতিতাবৃত্তিকে প্রোমোট করতে।

এর আগেও বলেছি, নারীবাদীরা কখনও চায় না একটা মেয়ে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করুক। তারা কোনো না কোনো ছলচাতুরি করে মেয়েদেরকে রাস্তায় টেনে আনবেই। তারা মেয়েদের মাথায় যেভাবেই হোক এটা ঢুকিয়ে ছাড়বে— তোমার যায়গা ঘরে নয়, তোমার যায়গা রাস্তায়।

সেই সাথে পতিতাবৃত্তির মত একটা সামাজিক সমস্যাকে এরা নির্মূল করা তো দূর কি বাত, বরং সেটাকে আরও প্রোমোট করে। লেখালেখি আর এসব নাটক-সিনেমা দিয়ে সেটার পক্ষে সমর্থন সৃষ্টির চক্রান্ত চালিয়ে যায়। এরা একটা পতিতাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারবে না, তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারবে না। বরং এরা ভাল মেয়েগুলোর মনেও পতিতাবৃত্তির প্রতি সমর্থন সৃষ্টি করতে পারবে। নারীর সম্মান ও অধিকার নয়, বরং নারীকে বেইজ্জতি করাটাই নারীবাদের মিশন।

৭. সময়টা ২০০৬~২০০৭ সাল। আমি তখন অনেক ছোট। তখন যেখানে থাকতাম, ওই এলাকার মহিলাদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বা সোমবার তালিম হত। এলাকার যেকোনো একটা বাড়িতে তালিম বসতো, আর অন্যান্য বাসা থেকে মহিলারা যেত সেখানে। আমার আম্মুও যেত। যেহেতু খুব ছোট ছিলাম, তাই আমাকেও সাথে নিয়ে যেত।

আমি আম্মুর কোলে বসে দা’ঈ আন্টিদের বয়ান শুনতাম, যদিও কিছু বুঝতাম না। সবাই মোনাজাত ধরলে আমিও ধরতাম, সবাইকে দেখতাম কাঁদছে বা কাঁদার চেষ্টা করছে। আমি এ-ও বুঝতামনা সবাই কাঁদছে কেন? কেউ তো মারা যায়নি!

যাইহোক, এভাবে পাড়া-মহল্লায় প্রতি সপ্তাহে তালিমের প্রচলন ছিল। তখন ঘরেঘরে দ্বীনি নসীহত চালু ছিল, মহিলারা যারা বেশি কিতাবাদি পড়তেন না তারাও অনেক কিছু জানতে পারতেন এসব তালিমের মাধ্যমে। তখন ঘরেঘরে মহিলাদের মধ্যে শালীনতা ছিল, ধার্মিকতা ছিল, তাদের আচার-আচরণও ছিল শোভনীয়। তালিমগুলো থেকে মা বোনেরা নামাজ পড়তে উৎসাহিত হত, দ্বীন চর্চার প্রতি ঝুকতো।

২০০৮-০৯ সালের পর থেকে বাড়িবাড়ি তালিমের ট্রেন্ড হারিয়ে গেল। ২০১০ সালে স্টার জলসা সহ এরকম আরও কিছু চ্যানেলের আবির্ভাব ঘটলো। আমাদের মা-বোনেরা তখন একটু একটু করে দ্বীনের পথ থেকে সরতে থাকলো আর একটু একটু করে টিভি-সিরিয়ালের প্রতি মোহাবিষ্ট হতে থাকলো। অনেকটা SN1 reaction এর মত।

তবুও কিছুদিন টিভি থেকে ইসলামী জ্ঞান আহরন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু বছর তিনেক পর ইসলামী চ্যানেলগুলোও সব বন্ধ করে দেওয়া হলো। ফলে আমাদের মা-খালারা কমপ্লিটলি দ্বীনের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলো এবং ধীরেধীরে যাবতীয় কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট-এর মধ্যে ডুবতে থাকলো।

একদিকে দ্বীনের দাওয়াত বন্ধ হলো, অন্যদিকে অশ্লীলতার হাতছানি বৃদ্ধি পেল, সেইসাথে যুক্ত হলো নারীদের ব্রেইনওয়াশ। ধীরেধীরে তাদের টেনে নামানো হলো রাস্তায়। তবু যদি পর্দাটা ঠিকমত করানো যেত তাও এক কথা ছিল। কিন্তু না! পর্দা করা মানেই মধ্যযুগীয় বর্বরতা, পর্দা মানেই নারীকে বস্তায় বন্দী করে রাখা। তাই পর্দাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নারী হয়ে উঠলো অর্ধউলঙ্গ অর্থাৎ প্রগতিমনা, স্মার্ট এবং স্বাধীন।

ওদিকে আমাদের বাবা-চাচা-ভাইয়েরাও পশ্চিমা সংস্কৃতিকে ধরে নিল আধুনিকতার মডেল। পশ্চিমা স্কেল অনুযায়ী তারা তাদের ছেলেমেয়ে, স্ত্রীদেরকে নীতি-নৈতিকতার বদলে শিক্ষা দিতে লাগলো তথাকথিত আধুনিকতা। আমাদের মা-বোনেরাও একেএকে ভুলে যেতে থাকলো ইসলামের বিধিনিষেধ। মাস-মিডিয়ার কল্যাণে ধীরেধীরে তাদের মাথায় পুশইন করানো সম্ভব হলো— ঘরে বসে থেকে নারী কিছুই পায়নি। নারী যে পরিমাণ কাজ করে সেই পরিমাণ সম্মান ফ্যামিলি থেকে পায়না। নারী তার ন্যায্য সম্মান পাবে যদি সে রাস্তায় নেমে আসে, যোগ দেয় কর্মক্ষেত্রে। (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)

এমন এক প্রচারণা চলতে চলতেই ডাক পড়লো— দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়।
ব্যাস… কার্য হাসিল!!

যে উদ্দেশ্যে নারীদেরকে ঘরের বাইরে আনার এতএত ফন্দিফিকির আঁটা হয়েছে এতদিন ধরে, তা এবার ‘উপভোগের’ পালা। নারীও দেখাতে থাকলো, যারা দেখার জন্য এতদিন ধরে উন্মুখ হয়ে বসে ছিল তারাও মনপ্রাণ ভরে দেখে নিল; আর এভাবেই চলতে থাকলো বছরের পর বছর।

আল্টিমেটলি নারী হয়ে গেল পণ্য। ছেলেদের শেভিং ক্রীমের অ্যাডেও নারী থাকবে, ছেলেদের বাইকের অ্যাডেও নারী থাকবে, ছেলেদের বডি-স্প্রের অ্যাডেও নারী থাকবে, পত্রিকায় কোনো পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে সেখানে শুধু মেয়েদেরই ছবি দেওয়া হবে, ভাবখানা এমন যেন এদেশে ছেলেরা পরীক্ষাই দেয় না। প্রথম আলোর প্রতিটা পত্রিকার প্রথম পাতায় নিশ্চিতভাবে কোনো না কোনো নারীর ছবি দেওয়া হবেই। (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)

আসলে, কোনো টিভিসি বা খবর বা অ্যানিথিং ইলস্‌ ভিডিও যেখানে নারীর প্রয়োজন-ই নেই সেখানেও একটা নারী রাখা হয় যাতে সিডাকটিভ আমেজে পাবলিক একটু বেশি খায়।

অনেক কোম্পানি নারীর সমানাধিকারের কথা বলে নারীকে কর্মে নিয়োগ দেয় ঠিকই। তবে তাদের কাছে সমানাধিকারের ইকুয়েশন একটু আলাদা। তাদের কাছে ৫০% নারী = ৫০% পুরুষ নয়, বরং ৮০% নারী = ২০% পুরুষ হচ্ছে সমানাধিকারের সমীকরণ। তারা নারী শ্রমিক বেশি রাখেন, কারণ তাদের সিডাকটিভিটি কাজে লাগিয়ে কাস্টোমারদের চিত্তাকর্ষণ করা সহজ হয়। (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)

শুধু এটাই না। নারীদের ইজ্জতমান ধূলিসাৎ করতে তাদেরকে দিয়ে আরও কী কী করানো হচ্ছে জানেন?

একটা সময় ১৮+ জোক্সগুলো কেবল ফেসবুকের কিছু পেইজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা ফেসবুকের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে টিভির পর্দায়। যে জোক্সগুলো পড়তেছি বা দেখতেছি এমনটা জানতে পারলে বাপ-মা নির্ঘাত পিটাবে, পিঠের ছাল-চামড়া তুলে নিবে, সে জোক্সগুলোই এখন টিভির পর্দায় হলাও করে দেখানো হচ্ছে, নারীকে দিয়ে বর্ণিল অঙ্গভঙ্গি করিয়ে উপস্থাপন করানো হচ্ছে। বাচ্চা থেকে বুড়ো যেকেউ ইচ্ছা করলে এখন এসব সুরসুড়ি জাগানিয়া কথাবার্তা শুনতে পারে, যাস্ট টিভি খুললেই। এমনকি বাপ-মা তার ছোটছোট ছেলেমেয়েকে সাথে নিয়েও এসব অনায়াসে দেখতে পারবেন। নাকি বলেন? [৯]

বলি, নষ্টামিগুলো এভাবে দহরম-মহরম করে সম্প্রচার না করলেই কি হত না? ছেলেপেলেরা এমনিই খুব সহজে পর্ণ দেখতে পারে। এখন আর আগের মত এলাকার গান লোড করার দোকানে গিয়ে বসে থাকা লাগে না। সবার হাতে হাতেই মোবাইল আছে, ডাটাও খুব সহজলভ্য। এতকিছুর পরেও কেন সরাসরি টিভিচ্যানেলেই এসব সস্তা সুড়সুড়ি জাগানিয়া প্রোগ্রাম রাখা লাগে? যে ছেলেমেয়েগুলোর কাছে মোবাইল অ্যাকসেস নেই, যারা বাবা-মা’র তত্ত্বাবধানে থেকে কিছুটা হলেও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা পেয়েছে, তাদেরকেও একদম ফ্যামিলি-লেভেল থেকেই নির্লজ্জ-বেহায়া-অসভ্য বানাতে না পারলে হচ্ছেনা??

এই ছেলেপেলেগুলো যখন ছোটবেলা থেকে এসব সস্তা বিনোদন দেখেদেখে বড় হয়, তখন এদের অবচেতন মনে ইভটিজিং, পরকীয়া, নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ন চিন্তাভাবনা করাটা ‘বৈধ’ হিসেবে গেঁথে যায়। কারণ এসব কন্টেন্ট দ্বারা এগুলোকেই প্রোমোট করা হচ্ছে। ভিডিও দুটো দেখলেই বুঝবেন।

এই ছেলেরাই যখন বড় হয়ে ধ্বর্ষণ করবে, তখন দোষ হয়ে যাবে কার? পুরুষের! অথচ ছেলেটাকে যে এতদিন ধরে অসভ্য বানিয়ে তোলা হয়েছে সে দায় কোনো নারী নেবে না।

অশ্লীলতা আর অসভ্যতা একদা ছিল ট্যাবু, এখন হয়েছে ট্রেন্ড। এখন বাপ-মা আর সন্তান একসাথে টিভির সামনে বসে কন্ডমের বিজ্ঞাপনের রগরগে দৃশ্যগুলো (সফটকোর পর্ণ) অবলোকন করে, কারও মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই। এতে করে পিতামাতার সাথে সন্তানের গোপনীয়তার যে পর্দাটা, সেটা আর থাকলো কই? মেয়েদের প্রাইভেট বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতে হবে, ঠিক আছে, সচেতনার অবশ্যই দরকার। তাই বলে এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে? (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)

এমন চলতে থাকলে কোনদিন না আবার ছেলে তার মাকে বলে বসে, ‘আম্মু আম্মু! তোমার কি স্যানিটারি ন্যাপকিন লাগবে? লাগলে আমাকে বইলো, আমি এনে দিব।’

সচেতনতার নামে নারীদের পিরিয়ড, স্যানিটারি ন্যাপকিন, মেন্সট্রুয়াল ক্যাপ, কনডম, গর্ভনিরোধক পিল ইত্যাদির তো বিজ্ঞাপণের শেষ নেই। ছেলেদের যে স্বপ্নদোষ হয়, এটা নিয়েও অনেক ছেলের মধ্যে সংশয়, হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হয়, ছেলেরাও তাদের বাপ-মার সাথে এসব বিষয় শেয়ার করার সাহস পায়না। কই? ছেলেদের এসব নিয়ে তো কোনো সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন তৈরী হয়না! এটাও তো পিরিয়ডের মতই ন্যাচারাল বিষয়। তাহলে হয়না কেন? নাকি ছেলে হয়ে জন্মেছি বলে সচেতনতার দরকার নেই? তাহলে এটা কীসের সমানাধিকার? এটা কি সমানাধিকারের নামে নারীকে পণ্য বানানো নয়?

একজন নারী পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে মা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে তাই তার জন্য প্ল্যাকার্ডে ‘happy to bleed’ লিখে সেলিব্রেট করা হয়। স্বপ্নদোষের মধ্য দিয়ে ছেলেরাও যে পিতা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে, কই, সেসব নিয়ে তো কোনো প্রচারণা নেই! তখন তো কোনো মিডিয়া ‘happy to nocturnal emission’ লিখে সেলিব্রেট করতে এগিয়ে আসেনা! এ কেমন বিচার???

এতকিছু বলার মূল উদ্দেশ্য এটা বুঝানো যে— নারীদেরকে নিয়ে যেমন বাড়িবাড়ি গিয়ে তালিম করা হত, একই উপায়ে নারীদের সচেতনতার কাজটিও নারী বা নারী-সংগঠন কর্তৃক বাড়িবাড়ি গিয়ে নারীকে সচেতন করার মাধ্যমে করা যেত। এত মাস-মিডিয়ার দরকার ছিল না। নারীকে এভাবে চরিত্রহীন বানিয়ে টিভির পর্দায় উপস্থাপন করার দরকার ছিল না। কিন্তু কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হত।

ব্যাবসায়িক পলিসির মূল ভিত্তি-ই হলো প্রচারণা। কিন্তু সব জিনিস নিয়ে প্রচারণা সহজ নয়। তাই আগে সেটাকে সহজ বানিয়ে নিতে হবে, তারপর প্রচারণা চালাতে হবে। ঠিক এইটাই অ্যাপ্লাই করা হচ্ছে এখনকার নারীদের ক্ষেত্রে। দুম করে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্যাপ ইত্যাদি জিনিসের বৃহৎ প্রচারণা চালাতে গেলে তোপের মুখে পড়তে হত। তাই দ্বীনি দাওয়াত বন্ধ করা হয়েছে, ‘একটু একটু’ করে নারীদের মধ্য থেকে শালীনতা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাকিছু ট্যাবু ছিল তা ট্রেন্ড বানানো হয়েছে, যতই তা অশ্লীল হোক।

অতঃপর নারীদের মধ্য থেকে যখন শ্লীলতার বোধ হারিয়ে গেল, তখন কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড নারীবাদীদের নামিয়ে দিলো প্রচারণায়। এভাবেই সবকিছুর পিছে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে কর্পোরেট দুনিয়া। (বলে রাখি, নাস্তিক-সেক্যুদের ঈশ্বর এই কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড)

গত লেখায় বলেছিলাম, সমানাধিকার হচ্ছে আলকাতরা আর, নারী-স্বাধীনতা (বা, নারীবাদ) হচ্ছে নৌকা। নৌকা ভাসাতে গেলে যেমন তার গায়ে আলকাতরা লাগানো জরুরী, তেমনি, নারীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গেলেও সমানাধিকারের বুলি আওড়ানো জরুরী। আর এই নারীবাদের পেছনকার কলকাঠি নাড়ছে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। সুতরাং, সমানাধিকারে নামে নারীকে পণ্য বানানোর মুল আইডিয়া ভোগবাদী কর্পোরেট দুনিয়ারই, আর নারীবাদীরা তাদের দাবার গুটি এবং সরলমনা নারীগণ হচ্ছে বলির পাঠা। ইজ ইট ক্লিয়ার???

তাছাড়া, নারীবাদী পোর্টালগুলোতে কেন এত ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা চালানো হয় সেটা কি বুঝে এসেছে? যাদের আসেনি, তাদের জন্য বলি— কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড হলো নাস্তিক-সেক্যুদের ঈশ্বর। কর্পোরেটোক্রেসি চায় তাদের পণ্যের মার্কেটিং; এর জন্য চাই নারী। কারণ, বিজ্ঞাপণে নারীর উপস্থিতি সিডাকটিভিটি বাড়িয়ে তোলে, দর্শক সেটা খায় বেশি। কিন্তু নারীদেরকে হাফন্যুড করার পথে ধর্ম একটা বড় বাধা। এজন্য, ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে নারীদের ব্রেইনওয়াশ করা হয়, যাতে তারা নিজেরাই পর্দার বিরোধীতা করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা কিছু পেইড ফেমিনিস্টকে (যে অলরেডী নাস্তিকও) কাজে লাগায়। তারাই এই ধর্মবিদ্বেষকে হাতিয়ার বানিয়ে সরলমনা নারী এবং অধিকার আদায়ের দাবীতে সদ্য নারীবাদে যোগ দেওয়া নারীদের ঘায়েল করে। যাদেরকে সফলভাবে ব্রেইনওয়াশ করা যায়, তারা পর্দার বিরুদ্ধে গিয়ে নেমে পড়ে কর্পোরেটোক্রেসির দাসত্ব করতে।

আর, ছেলেদের ক্ষেত্রে মিডিয়ায় সচেতনতার তেমন কোনো তোড়জোড় দেখা যায়না, কারণ, এর সাথে তেমন কোনো ব্যাবসায়িক স্বার্থ জড়িত নেই। শুধু মুখে সমানাধিকার; মুখোশের আড়ালে টাকার খেলা।

(চলবে….)

রেফারেন্সঃ
[৯] https://youtu.be/7rOtz71nYAE

লেখকঃ Ruhul Kabir ❤

Feminism is Cancer , রুহুল কবির

১ম পর্বঃ

ফেমিনিস্টরা যে কোন ধরণের হিপোক্রেট এবং তারা তাদের অপকর্ম ডিফেন্ড করতে গিয়ে আরও কত অপকর্ম করে বসে, সেটা বর্ণনাতীত। সামগ্রিক বিবেচনায় ফেমিনিজম এক ধরণের ‘সোশ্যাল ক্রাইম’।

প্রথম কথা হলো, একটা মেয়ে কখনো ফিমিনিস্ট হয়ে জন্মায় না, জন্মানোর পর ফেমিনিস্ট হয়। তাহলে সে কেন হয়? কীভাবে হয়? কার জন্য হয়? তার ফেমিনিজমে নাম লেখানোর পিছে কী কী প্রভাবকের হাত রয়েছে?

উত্তরে আসি— প্রতিটা ফেমিনিস্টের ফেমিনিস্ট হওয়ার গল্প একইরকম নয়, রয়েছে নানাবিধ বৈচিত্র্য। একেক জনের ব্যাকগ্রাউন্ড একেক রকম। কয়েক টাইপের ফেমিনিস্টের দৃশ্য তুলে ধরিঃ

১. পারিবারিকভাবে সাপ্রেস্ড ফেমিনিস্ট।

কিছু মেয়ে মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও তাদের দাদা-বাবা-চাচা কিংবা ভাইয়ের আচরণে না-ইনসাফি লক্ষ্য করে। সে ভাবে, নারী হওয়ার কারণেই তাকে অর্থ-সম্পত্তি, শিক্ষা, মেধাবিকাশ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অতঃপর সে তার অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে, আর এই তাগিদ থেকেই নারীবাদে যোগ দেয়।

বাংলাদেশের পার্স্পেক্টিভ থেকে দেখা যায়, এখানে ৯০% লোক মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ মুসলিমই কেবল জন্মগতভাবে মুসলিম, কর্মগতভাবে নয়। অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় বিধানের ধার দিয়ে তো হাটেনই না, বরং ধর্মের অযুহাত দিয়ে একের পর এক অধর্ম করে বেড়ান। পারিবারিক ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম নয়। নারীর প্রতি আর্থিক, শারীরিক, মানসিক নির্যাতন এখনও থেমে নেই সেসকল পরিবারে। এখনও অনেক বাবা তার মেয়েদেরকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন, যেটা আমি নিজের নিকটাত্মীয় ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যেও পর্যবেক্ষণ করেছি। এ ক্ষেত্রে নারী যদি নারীবাদে যোগ দেয় তবে সে দোষ নারীর নয়, বরং তার পরিবারবর্গের।

২. সেক্সুয়ালি এ্যাবিউজড ফেমিনিস্ট।

ক) এদের কেউকেউ ছোটবেলায় রক্ত সম্পর্কের ঘনিষ্ট আত্মীয় বা দুঃসম্পর্কের আত্মীয় কিংবা পাশের বাসার আঙ্কেলের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার হয়। কেউকেউ না বুঝে নিজের দাদী-চাচী-ফুপীর কাছে ঘটনাগুলো শেয়ারও করে ফেলে, বাচ্চাসুলভ ভঙিমায়। তখনও এরা ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারেনা যে তাদের নিজের সাথে কী হয়ে গেছে।

ছোটবেলা থেকেই এদেরকে কোনোভাবে ভয় দেখিয়ে মুখে কুলুপ এটে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এরপর এরা যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, একটু একটু বুঝতে শেখে, তখন তাদের মধ্যকার ভয় ক্রমশ রূপ নেয় পুরুষ-বিদ্বেষে। আর সে বিদ্বেষ থেকে বাদ পড়েনা নিজের বাবাও। কারণ, তার বাবা চাইলে অপরাধীর ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতো। তা না করে ফ্যামিলির পক্ষ থেকে অ্যাবিউজিংয়ের ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে যাতে, এত ছোট বয়সেই মেয়েটাকে নিয়ে সমাজে লজ্জার মুখে না পড়তে হয়। এইযে ভিক্টিমকে লুকিয়ে ফেলে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া, এটাই পুরুষবিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট কারণ, আর এই বিদ্বেষ থেকেই তারা ফেমিনিজমে নাম লেখায়।

খ) এই শ্রেণীর অন্য ক্যাটেগরী হলো— বুঝজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার পরও, বয়ফ্রেন্ড কিংবা যাস্টফ্রেন্ড কিংবা ‘এমনি ফ্রেন্ড’ দ্বারা অ্যাবিউজড হওয়া ফেমিনিস্ট।

এরাও অ্যাবিউজড হওয়ার পর পুরুষ-বিদ্বেষ থেকেই ফেমিনিজমে নাম লেখায়। তবে, এক্ষেত্রে অ্যাবিউজড হওয়ার সুযোগটা এরা নিজেরাই তৈরী করে দেয়। এরা এটা স্বীকার করবে না যে এ সুযোগ তার নিজের তৈরী করে দেওয়া। তারা এখানে যুক্তি দেখাবে, “একটা মেয়ে কি করে চাইবে যে কেউ তাকে হ্যারাস করুক? এটা কেমন কথা?” আর এসব বলে তারা সিম্প্যাথি নেওয়ার চেষ্টা করবে, এবং এমন একটা ভাব ধরবে যেন সব দোষ পুরুষের, পুরুষ মানেই খাদক, পুরুষের কাছে নারী মানেই খাদ্য।

এরা ফেমিনিজমে আসার পর থেকে ক্রমাগত পুরুষ-বিদ্বেষ ছড়িয়েই যাবে। ‘পুরুষ মানেই ধ্বর্ষক’ এমন একটা প্রচারণা প্রায়ই এদের কাছ থেকে পাওয়া যায়।

৩. লিবারেল ফেমিনিস্ট।

এরা হচ্ছে হাই-ক্লাস ও এলিট-ক্লাস ফ্যামিলি থেকে আসা বাবার আদরের খুকুমনি। গায়েপায়ে অশ্বেতাঙ্গ হয়েও চিন্তা-চেতনা ও পোশাক-পরিচ্ছদে পশ্চিমা সংস্কৃতি ধারন করে দিনরাত সেক্যুলারি ভাবনায় আর অসংযত যৌন ফ্যান্টাসিতে ভুগে একপর্যায়ে এরা হয়ে ওঠে ‘নারী-স্বাধীনতার’ মুক্তির দূত। এদের কাছে ‘স্বাধীনতা’ মানে স্বেচ্ছাচার, নারী যেখানে খুশি যাবে, যা খুশি পরবে, যার সাথে খুশি ঘুরবে, যার সাথে খুশি ‘ইয়ে’ করবে ইত্যাদি।

এদের প্রাথমিক সাপোর্টটা এদের ফ্যামিলি থেকেই আসে। এরা অপর লিঙ্গের ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরাঘুরি করলে, পার্কে গেলে, রেস্টুরেন্টে গেলে এদের বাবা-মা উল্লসিত হয়ে ওঠে আর ভাবে, যাক ছেলেটা (বা মেয়েটা) মানুষের সাথে কম্যুনিকেশন স্কিল (!) ডেভেলপ করছে। এরা দুয়েকটা ছেলে বন্ধুকে (বা ছেলে হয়ে মেয়ে বন্ধুকে) বাসায় নিয়ে গেলে এদের বাবা-মা খুব আদরযত্নে তাদের আপ্যায়নও করে থাকেন। আরও বলেন, “ও! তোমার বন্দুউ! তা যাও, তোমরা ঘরে গিয়ে গপ্পো করো, আমি তোমাদের জন্য চা-নাস্তা নিয়ে আসতেছি।” উরিই বাবা!!

৪. সেক্সুয়ালি ফ্রাট্রেটেড ফেমিনিস্ট।

রূপ-সৌন্দর্য কিংবা শারীরিক অন্য কোনো কারণে এরা মানুষের ‘নজর কাড়তে’ ব্যর্থ হয়, ফলে খানিকটা হতাশ হয়, আর সেই হতাশা নিয়ে তারা যোগ দেয় নারীবাদে। এরাও পুরুষ-বিদ্বষী, এমনকি কখনও কখনও এদের বিদ্বেষটা স্বয়ং আল্লাহর উপর গিয়েও পড়ে। কেন আল্লাহ তাকে অসুন্দর করেছেন, কেন আল্লাহ তাকে এইএই গুণ দেননি… ইত্যাকার আপত্তি তুলে তারা ভাবেন আল্লাহ তার উপর অন্যায় করেছেন। নাস্তিকতায় যোগ দেওয়া বেশিরভাগ নারী-ই লিবারেল ও সেক্সুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড ক্যাটেগরীর ফেমিনিস্ট।

এদের আচরন অনেকটা লেজকাটা শিয়াল এর মত। শিয়াল যেমন নিজের লেজ কাটা পড়ায় বাকি শিয়াল গুলোকেও লেজ কেটে ফেলার আহ্বান জানিয়েছিল, এরাও তেমনি নিজেরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে সেখানে যাতে অন্য নারীরাও যেতে না পারে সেই প্রোপাগাণ্ডা চালায়। (বিস্তারিত একটু পর বলছি)

৫. ক্যারিয়ারিস্ট ফেমিনিস্ট।

এরা মনে করে পুরুষজাতি-ই নারীর ক্যারিয়ারের প্রতি মূল বাধা। তাই এরা পুরুষদেরকে গালি দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেমিনিজমকে বেছে নেয়। তাছাড়া, ঘর ছেড়ে ফেমিনিস্ট হতে পারলে পোশাকের স্বাধীনতা খুব সহজেই পাওয়া যায়, যেটা ক্যারিয়ার গঠনে একান্ত সহায়ক।

এদের কাছে নারীর মূল্য নির্ধারিত হয় সে চাকরি করতে পারছে কি না তার উপর, টাকা কামাই করতে পারছে কি না তার উপর। এরাই সাধারণত বাসায় বাচ্চা রেখে ক্যারিয়ার পূজোয় লিপ্ত হয়। আর এদের বাচ্চা-কাচ্চাদের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয় বুয়াসুলভ আচরণ।

৬. নারীকামী নারীবাদী

এরা হচ্ছে পুরুষ নারীবাদী। এরা নারীর অধিকারের কথা বলে নারীদের কাছ থেকে সুযোগ নিতে চায়। এদের ধান্ধা থাকে— নারীর অধিকারের পক্ষে কথা বললে নারীরা হয়ত তাকে খুব কিউট ভাববে, অতঃপর কোনো একদিন প্রকাশ্যে অফার দিয়ে বসবে, “তুই চুল করে দে এলোমেলো, ভেঙে দে না চুড়ি” এহেম এহেম!!

নারীবাদী পুরুষগণকে নারীর পোষাকের স্বাধীনতা নিয়ে বেশ সোচ্চার থাকতে দেখা যায়। “নারী কি তার পছন্দমত পোষাক পরবে না?” নইলে আমরা তাদেরকে দেখে চোখের ক্ষুধা মিটাবো কী করে!

যাইহোক….. আমরা বিভিন্ন ক্যাটেগরীর নারীবাদী দেখলাম।
বৃহৎ স্কেলে নারীবাদের কারণ হিসেবে—

— নারীর প্রতি পরিবার ও রাষ্ট্রের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অভাব
— নারীমনে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও প্রাধান্য বিস্তার
— ‘ক্যারিয়ার ব্যাতীত নারী মূল্যহীন’ এমন ধারণার বীজ বপন
— ব্যাপক হারে সেক্যুলারাইজেশন ও ইসলামোফোবিয়ার সৃষ্টি
…… ইত্যাদি কারণগুলোকে বড় করে দেখা যায়।

এবার আমরা নারীবাদের প্রপাগান্ডা, হিপোক্রিসি এবং তাদের কর্মপদ্ধতিসমূহ দেখার চেষ্টা করবো, উদাহরণসহ।

১. কমেন্টের প্রথম ছবিটি খেয়াল করুন। ডান পাশের মেয়েটি রাহাফ, যিনি সৌদির নাগরিক। (চোখের পর্দা রক্ষার্থে ব্লার করে দেওয়া দিলাম) পর্দার বিধান ও ইসলাম নিয়ে সমালোচনার কারণে যখন শাস্তির মুখে পতিত হচ্ছিল তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া, নারী অধিকার সংগঠন, Human Rights রাহাফের পাশে দাঁড়ায়, তাকে কানাডায় শরণার্থী হতে সহায়তা দেয়।

বাম দিকের নারীটি ফিলিস্তিনের একজন স্কুল শিক্ষিকা যাকে ইজরাঈলী সৈন্যরা গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে, ঐ নারীটির চারটি শিশু কন্যাও ছিল বর্বর ইজরাঈলী সৈন্যরা কোনো কিছুই তোয়াক্কা করলো না। এই নারীটির পাশে নারী অধিকার সংগঠন, Human Rights, আন্তর্জাতিক মিডিয়া BBC, Al Jazeera কেউই দাঁড়ায়নি।

কেন সেটা বুঝেছেন তো?
এখনও না বুঝলে আরেকটু তথ্য দিই। এই রাহাফ কানাডায় গিয়ে স্বাচ্ছ্যন্দ্যে বিকিনি পরে ঘুরে বেড়াতে পারে। এবং এভাবে সে নিজেকে স্বাধীন মনে করতে পেরে খুব গর্ব করে বলেছে— The biggest change in my life… from being forced to wear black sheets and being controlled by men to being a free woman. [১]

২. নারী ক্ষমতায়নের প্রভাব তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যের ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, They are powerful and influential in the workplace, so they are not going to taking any nonsense at home. স্পষ্টতই সাংসারিক জীবনটা যে নারীর জন্য ‘আহাম্মকি’ এটাই প্রমাণ করে এই বক্তব্য।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম ডিভোর্স লয়ার Marilyn Stowe এর মতে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নারী সাংসারিক জীবন অসুখী হওয়া মাত্রই খুব সহজে সংসার ত্যাগ করতে পারে। [২]

এ থেকে বুঝা যায়, একটা সংসারকে শক্ত করে ধরে রাখার মন মানসিকতা কর্মজীবী নারীদের মাঝে কম থাকে। ভাল লাগলে থাকলাম, না লাগলে গেলাম। অর্থাৎ, পারিবারিক বন্ধনের প্রতি বিন্দুমাত্র দায়িত্বশীল থাকার প্রয়োজন বোধ করে না এরা।

একদিকে পুরুষের অবহেলার জন্য নারীরা বিরক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে স্বনির্ভরতার জন্য তারা সংসার টিকিয়ে রাখারও প্রয়োজন মনে করছেন না। কিছুক্ষেত্রে নারীদের স্বেচ্ছাচারে বিরক্ত হয়ে পুরুষরা ডিভোর্স পেপার জমা দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষেত্রে নারীরাও ‘ভাল্লাগেনা তাই থাকলাম না’ অযুহাতে ডিভোর্স পেপার জমা দিচ্ছে। তবে এইক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে। এমনই এক প্রতিবেদন এসেছে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর পাতায়।

সেখানে এক জরিপের তথ্যানুসারে দেখানো হয়েছে, ডিভোর্স পেপার জমা দেওয়াদের ৭০.৮৫% হচ্ছেন নারী, আর ২৯.১৫% হচ্ছে পুরুষ। ২০০৬ সালে যেখানে প্রতি হাজারে বিচ্ছেদের হার ছিল ০.৬% এবং ২০১৮ সালে এ হার ১.১%। বিচ্ছেদের আবেদনকারীদের মধ্যে যারা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন তাদের সংখ্যা হাজারে ১.৭% জন এবং অশিক্ষিতের সংখ্যা ০.৫% জন

২০১৬~১৮ এই পাঁচ বছরের জরিপানুযায়ী, ঢাকায় তালাকের মোট আবেদনের ৬৬.৬% স্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং ৩৩.৮৪% স্বামীর পক্ষ থেকে এসেছে। এই জরিপকালীন চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তালাকের নোটিশ পাওয়া গেছে ১৯৮ টি যার মধ্যে নারীরা দিয়েছেন ১৪২ টি।

এই প্রতিবেদনের শেষে ঢাবির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকায় একজন নারী এখন তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারছে। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে অনেক নারী নিজের পেশাজীবনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ফলে নারী নিজেই এখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। [৩]

আজ পর্যন্ত কোনো নারীবাদীকে দেখা যায়নি কোনো নারীর ভেঙে যাওয়া সংসার জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিংবা পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করার চেষ্টা করেছে। বরং তারা কিছু একটা ইস্যু পেলেই পুরুষের উপর নারী নির্যাতনের ট্যাগ লাগিয়ে নারীকে উস্কে দেয় ডিভোর্স দেওয়ার জন্য। এভাবে নারীবাদীরা সংসার গুলো নষ্টই করে যাচ্ছে শুধু, সংসারটাকে সুখী করার জন্য তেমন কোনো কাজ করছেনা।

৩. কোনো এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা হযরত শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কে? ইসলাম ধর্ম প্রচারে প্রথম সহায়তা কে করেছিলেন? তিনি বিবি খাদিজা (রা.)। মহানবী (সা.) যখন ইসলাম ধর্ম প্রচার করছিলেন, তখন তো তিনিই এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি সব সম্পদ দিয়ে দিলেন ধর্ম প্রচারের জন্য। সেই বিবি খাদিজা (রা.) ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। উটে চড়ে ব্যবসার জন্য দেশে দেশে যেতেন। কাজেই মেয়েদের ধর্মের নামে ঘরে আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। [৪]

উনি উটে চড়ে ব্যবসার জন্য দেশে দেশে যেতেন? উম্মুল মু’মিনিন-এর গর্বধারিনী মায়ের নামে এতবড় অপবাদ! এতবড় মিথ্যাচার!!! তাছাড়া উনি ‘ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে’ সব সম্পদ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন? নাকি ওহী নাযিল হওয়ার অনেক আগেই, কুরাইশদের আপত্তির জবাবে নিজের সব সম্পদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিয়ে দেন? তিনি কি আদৌ জানেন এ ব্যাপারে?

এনারা এভাবেই স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ইসলামের একজন সম্মানিত নারীর নাম ব্যাবহার করে নিজেদের চিন্তা-চেতনা ‘বৈধ’ হিসেবে অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চান। আর ইসলাম সম্পর্কে কম জানা নারীরাও এসব শুনে আহ্লাদে বাকবাকুম বাকবাকুম করতে থাকে।

অথচ রাষ্ট্র নারীদেরকে কী দিয়েছে? শুধু চাকরির লোভ দেখিয়ে রাস্তায় টেনে এনেছে, তাদের পর্দাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু নারীকে প্রোটেকশন দেয়নি। কখনও শুনেছেন একটা ধ্বর্ষকের ফাঁসি হয়েছে? মিনিমাম একটা? শোনেন নি!

আরেক সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, ‘কোনো ধর্মেই নারীদের কর্মে নিষেধ নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ম বা সমাজের দোহাই দিয়ে মেয়েদের পিছিয়ে রাখা হয়। মেয়েরা যে হারে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, সেই হারে কর্মে আসতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ওপর রাষ্ট্র কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তাই তোমাদের কর্মমুখী হওয়া দরকার। কোনো ধর্মেই নারীদের কর্মে বাধা নেই। যারা এই বাধা-নিষেধ দিচ্ছে তারা মেয়েদের পিছিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।’ [৫]

“মেয়েরা যে হারে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, সেই হারে কর্মে আসতে পারছে না” কথাটি দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষার আল্টিমেট উদ্দেশ্য তোমাকে কর্ম-করিতে-হইবে। তুমি যদি কর্ম না কর তাহা হইলে তোমার পিছে রাষ্ট্র এত কষ্ট করিয়া এতএত অর্থ ব্যয় করিলো কেন?? রাষ্ট্র তোমার পিছে অর্থ ব্যয় করিয়াছে হেতু তুমি তোমার পরিবারের দাসী হইয়া থাকিতে পারিবানা, তোমাকে কর্পোরেট দাসী হইয়া থাকিতে হইবে। আমার খেয়ে আমার পরে স্বামীসেবা? তা হবেনা!

৪. নারীবাদ যে নারীদেরকে ফুঁসলিয়ে ফুঁসলিয়ে শুধু রাস্তায়ই নামাচ্ছে তা নয়। এরা রীতিমত নাস্তিকতার প্রপাগান্ডাও হরদম চালাচ্ছে।

উপরে বর্ণিত লিবারেল ফেমিনিস্টগণের পোষাকের স্বাধীনতা নিয়ে চিল্লাচিল্লি করার আল্টিমেট পরিণতি হচ্ছে নাস্তিকতা। ‘কেন নারী তার পছন্দসই পোষাক পরতে পারবে না? কেন নারীকে পর্দা মেইনটেইন করতেই হবে? কেন নারীকে কালো কাপড়ের বস্তা পরে থাকতে হবে? ধর্ম মানেই বর্বর। ধর্ম নারীকে স্বাধীনতা দেয় না। ধর্ম মেনে চললে নারী তুমি স্বাধীন হতে পারবা না। তাই তোমাকে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে।’

নারীবাদীদের এক পোর্টালে লেখা হয়েছে, ‘আমি মনে করি পৃথিবী জুড়ে সমস্ত নারীর উচিৎ ধর্ম নামক নোংরা, অশ্লীল, বিষাক্ত জিনিসটিকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া।’ [৬]

আরেকটি জনপ্রিয় নারীবাদী পোর্টালে ‘নারীর কোনো ধর্ম নেই’ শিরোনামে একটা লেখা ছাপা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে ধর্ম কিভাবে নারীদেরকে শোষণ-প্রেষণ করেছে সেই চিত্র।

‘আদম শ্রেষ্ঠ, তার গায়ে কালিমা লেপন করা যাবে না, বেহেশত থেকে তার বের হওয়ার পেছনে পুরো দায়ভার হাওয়ার। তাই নারী মাত্রেই পাপী, তার পাপের ভার বেশি, জাহান্নামে তাদের সংখ্যাও বেশি।’

ওখানে আরও বলা হচ্ছে, ‘(ধর্মমতে) সে শয়তানের বাহন, বিষধর সাপ, ছলাকলার অধিকারী ও পুরুষে লালসা উদ্রেককারী। নদী সে, যেখানেই তার উৎপত্তি হোক, হাজারো বাধা ডিঙিয়ে সমুদ্রে তার স্বস্তি। আজ থেকে হাজার বছর পূর্ব থেকে প্রাধাণ্যবিস্তার করা পুরুষতান্ত্রিক ধর্মগুলো ঠিক তেমনি নারীর অবস্থানের দিকে এক সুতোয় মিলিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই কবরস্থানে নারীর প্রবেশাধিকার নেই, সে অশুচি, পিরয়ডের সময় ধর্ম তাকে ত্যাগ করে এবং জাহান্নামের বাসিন্দাদের অধিকাংশই নারী।’ [৭]

জ্বি, এহেন হাস্যকর, অজ্ঞতাপূর্ণ, বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা লিখেই নারীবাদীগণ অন্যান্য সরলমনা নারীদের ব্রেইন ওয়াশ করে থাকেন, নারীর মাথায় খুব সুন্দর করে ধর্মবিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেন। আর যে সকল ললনাগণ ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় জ্ঞান বিবর্জিত, তারা অনায়াসেই নারীবাদীদের টোপ গিলে ফেলেন, হয়ে পড়েন নাস্তিক, মুর্তাদ ইত্যাদি।

নারীবাদী পোর্টালের আরেকটা আর্টিকেলে যে ভয়াবহ মিথ্যাচার করা হয়েছে তা দেখে আমি মিনিট খানেকের জন্য তব্দা খেয়ে বসে ছিলাম। ওখানে এক ‘বিশিষ্ট’ নারীবাদী-নারীবিদ লিখেছেন, ‘মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সুয়াদ সালেহ বলেছেন— আল্লাহ মুসলমানদের অমুসলিম নারীদেরকে ধ্বর্ষণের অনুমতি দিয়েছেন; কোনো মুসলিম পুরুষ চাইলে দাসীদের সঙ্গেও যৌন সম্পর্ক করতে পারবে, এটা বৈধ। মুসলিমদের সঙ্গের শত্রুপক্ষের যুদ্ধের সময় মুসলিম পুরুষরা অমুসলিম নারীদের ধ্বর্ষণ করতে পারবে; যুদ্ধবন্দী নারীরা মুসলিম সেনাপতিদের সম্পত্তি।’

এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি কোনো রেফারেন্স সংযুক্ত করেননি। তাই এটা একাধারে ব্যাক্তির উপর মিথ্যাচার, ধর্মের উপর মিথ্যাচার, আল্লাহর উপর মিথ্যাচার।

তিনি সেই আর্টিকেলের এক পর্যায়ে লিখেছেন, ‘মুসলমানরাই দায়ী তাদের নিজেদের ধ্বর্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। যেই ধর্মে শয্যায় অনিচ্ছুক স্ত্রীকে পেটানোর অধিকার দেওয়া হয়, দাসীর সাথে যৌনাচার বৈধ করা হয়, যুদ্ধে বিপক্ষের নারীদের সম্পত্তির মত ভাগ বাটোয়ারা করে ভোগ করা বৈধ বলা হয় সেই ধর্মের মানুশ ধ্বর্ষক হবে না তো কী হবে?’ [৮]

সুস্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এসব নারীবাদী পোর্টাল গুলোতে কী পরিমাণ ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। ধর্মের একটা কথা ঘুরিয়ে পেচিয়ে নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করে কিভাবে ব্রেইনওয়াশ করতে হয় সে ব্যাপারে এরা সিদ্ধহস্ত।

৫. বলছিলাম সেক্সুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড নারীগগনের আচরণ লেজকাটা শেয়ালের মত। কীভাবে?

কমেন্টে একটা ছবি অ্যাড করেছি দেখেন। সেখানে খুব সুন্দরভাবে নারীকে বিয়ের জন্য অনুৎসাহিত করা হয়েছে। ‘বিবাহ’ জিনিসটা যে সমাজের একটা অহেতুক অপ্রয়োজনীয় বিষয়, এটা যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর, সেটা খুব চমৎকারভাবে উদাহরণ সহ দেখানো হয়েছে।

বস্তুত, তাদেরকে কেউ বিয়ে করেনা। তাই ওরা হিংসায় জ্বলে যায়। এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ায় যেন অন্য কেউ বিয়েতে উৎসাহিত না হয়।

নারীবাদীদের মাঝে এরকম একটা প্রচারণা প্রায়ই শোনা যায়— বিয়ের আগে পাত্রকে দুয়েকবার ‘পরখ’ করে নেয়া ভাল, নইলে বিয়ের পরে জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। সারাজীবন হতাশা নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া লাগবে।

পরখ মানে…. বুঝলেন কিনা…. এহেম!
তো যাইহোক! এরা এমন পরখ করে নেওয়ার সুবুদ্ধি (!) দেয় যাতে পরখ করা হয়ে গেলে পাত্রেরও সাধ মিটে যাবে, সে নতুন কাউকে খুজবে, ওদিকে মেয়েটারও আর বিয়ে করা হবে না। এভাবে সে নিজে তার সতীত্ব হারাবে, এবং পরবর্তী জীবনেও লাঞ্চনার শিকার হবে। মানে সোজা কথা, নষ্টামির যে যে আইটেম আছে সবকিছুই নারীবাদীদের অ্যাপ্লাই করা হয়ে গেছে।

ওরা এমনটা কেন করে? কারণ, ওরা নিজেরাও জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নিজের দোষে নিজের ফ্রেন্ড দ্বারা হ্যারাস্‌ড হয়েছে। তাই তারা অন্য নারীরও ভাল চায় না।

ওরা চায় না কোনো নারী সংসার করুক, তাদের একটা সুন্দর ফ্যামিলি হোক, তাদের বাচ্চাকাচ্চা বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে লালিতপালিত হোক। এজন্যই দেখবেন ওরা বিবাহ-বিরোধী অসংখ্য প্রচারণা অব্যহত রাখে।

ওরা বাল্য বিবাহ দেখামাত্র কাঁকড়ার মত কামড়াতে চলে আসে। কিন্তু ওদের কাছে বাল্যপ্রেম হালাল, অবৈধ সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া অবৈধ বাচ্চা বনে, জঙ্গলে, ড্রেনে ফেলে রাখাটাও ওদের কাছে বৈধ। কিন্তু ১৮ বছরের আগে কেউ বিয়ে করেছে এমন খবর শোনামাত্রই এরা কামড়াতে চলে আসবে।

(চলবে….)

লেখকঃ Ruhul Kabir
———

রেফারেন্সঃ
[১] https://metro.co.uk/2020/02/05/saudi-teen-fled-canada-abused-daring-wear-bikini-12183962/amp/
[২] https://www.independent.co.uk/news/uk/this-britain/working-women-more-likely-to-seek-divorce-5346460.html
[৩] https://www.bd-pratidin.com/amp/last-page/2018/01/09/295890
[৪] https://sarabangla.net/post/sb-334036/
[৫] https://www.odhikar.news/national/120930
[৬] https://www.nari.news/post/narir-farzana
[৭] feministfactor.com/1991/
[৮] https://womenchapter.com/views/13530

Design a site like this with WordPress.com
Get started