
নাফাখুম জলপ্রপাত

নাফাখুম জলপ্রপাত

গজনী ইকোপার্ক, শেরপুর

রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্ট, মৌলভিবাজার

Rajkandi reserved forest, Kamalganj, Moulvibazar

Rajkandi Reserved forest, Kamalganj, Moulvibazar

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, মৌলভিবাজার

মধুটিলা

Feminism is cancer, রুহুল কবির
(শেষ পর্ব)
১১. একুশ শতকের সবচেয়ে হাস্যোদ্দীপক মামলা হলো ‘বিয়ের প্রলোভনে ধ্বর্ষণ’ মামলা।
বিয়ের লোভ আবার কি জিনিস? বিয়ে কি চকলেট? আর তুমি কি বাচ্চা শিশু যে তোমাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে ভুলিয়ে-ভালিয়ে ধ্বর্ষণ করবে? কেউ তোমার সাথে দু’মাস প্রেম করলো, বিয়ের আশ্বাস দিলো, আর অমনি তুমি শুয়ে পড়লে? বিন্দুমাত্র বোধভাষ্যি নাই? আশ্বাস দেওয়া মাত্রই রাজী হয়ে গেলে, অথচ আদৌ বিয়ে হবে কিনা তার কোনো গ্যরান্টি নেই; এতটুকু বোঝার মত সেন্স নাই?
এইসব ননসেন্স ইস্যু নিয়েও নারীবাদী মিডিয়াগুলোকে বেশ সরব থাকতে দেখা যায়। এরা আবার আরেক মোটো প্রণয়ন করেছে। কী?
‘না মানে না’
এরা কনসেন্ট (সম্মতি) সহকারে যে কারো সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন সাপোর্ট করে। চাচার সাথে ভাতিজীর, মামার সাথে ভাগ্নীর, চাচাত ভাইয়ের সাথে বোনের, অফিসের বসের সাথে কর্মচারীর; যে কারো সাথে যে কারো রিলেশন বৈধ, শুধু কনসেন্ট থাকতে হবে। কিন্তু কনসেন্ট না থাকলে সেটা হয়ে যাবে ধ্বর্ষণ। মানে, কনসেন্ট সহকারে হচ্ছে হচ্ছে হচ্ছে, এভাবে ধরাযাক ১২ মিনিট পর্যন্ত হলো; এখন যদি ১২ মিনিট ১ সেকেন্ডে গিয়ে বলে ‘না’ , তাহলে ১২ মিনিট ২ সেকেন্ডের পর থেকে যা হবে সব ধ্বর্ষণের আওতায়ভূক্ত।
সেদিন দেখলাম মিসেস মুখার্জী (চিনেন হয়ত সবাই) এই ব্যাপারটাকে খুব সুন্দরভাবে প্রোমোট করছেন। মানে, যার যেমন চরিত্র, তার তেমনই প্রচারণা।
হ্যাঁ মানছি নারীরা প্রচুর পরিমাণ হয়রানির স্বীকার হয়। কেউ হ্যারাজড্ হলে মানুষজন তাকে অনেক অনেক সিম্প্যাথিও দেখায়। কিন্তু সিম্প্যাথি তথা, সহানুভূতিকে পুঁজি করে কি সুন্দর ব্যাবসা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে এইটা কয়জনের চোখে পড়ে?
ধর্মানুভূতি, পর্ণানুভূতি আর সহানুভূতি, এই তিন অনুভূতিকে পুঁজি করে যথাক্রমে ধর্মব্যাবসা, পর্ণ ব্যাবসা আর ধ্বর্ষণ মামলায় পুরুষ হ্যারাজ করার ব্যাবসা দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে।
এ বছরের প্রথমদিকেই কালের কণ্ঠ একটা খবর ছেপেছিল এরকম—
‘প্রেম, বিয়ের নাটক, অতঃপর মেয়রের নামে ধ্বর্ষণ মামলা’
খবর পড়ে যেটা বুঝলাম, এটা ছিল খুব সুন্দর সাজানো নাটক। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে ক্ষমতাসীনেরা ক্ষমতার জোরে বিভিন্ন ‘সুযোগ’ নিয়ে থাকেন। কিন্তু কিছুকিছু ঘটনা আছে যা দেখলেই বোঝা যায় এটাতে ঘাপলা আছে; ওখানে সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর ফন্দিফিকির আছে।
এই ঘটনা এখন প্রায়ই দেখা যায়। বিয়ে হবে বিশাল অঙ্কের দেনমোহরে। তারপর স্ত্রী করবে পরকীয়া। স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে হয় ঘুমের মধ্যে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিবে, নইলে বলবে— এতই যখন জ্বলে, তাহলে আমাকে ছেড়ে দিলেই তো পারো।
এখন ছেড়ে দিতে গেলে তো দেনমোহর শোধ করতে হবে, নইলে তালাক দেওয়া যাবে না। এখন ধরেন, মোহর যদি হয় ১০ লাখ, আর সেটা ইনকাম করতে যদি সেই লোকের ৫-৬ বছর লেগে যায়, তাহলে সে ওই ৫-৬ বছর কী করবে? বউয়ের পরকীয়া দেখবে? নাকি সুইসাইড করবে? ইদানীং ‘স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামীর আত্মহত্যা’ টাইপের নিউজগুলো অনেক বেশি-ই পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কয়েকদিন আগে এক পুলিশ নিজের রিভলবার দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে সুইসাইড করেছে। মৃত্যুর আগে তার দেওয়া একটা ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হয়। সেদিনও ফেসবুকে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে লাইভে কুপিয়ে হত্যা করে, অতঃপর নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দেয়।
যদিও সুইসাইড কোনো সল্যুশন নয়, কিন্তু এটা এছাড়া আর অন্য কোনো সল্যুশনও তো নেই। স্বামী পরকীয়া করলে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন’ এবং ‘নারী অধিকার সংগঠন’ আছে নারীর পক্ষে কথা বলার জন্য; কিন্তু স্ত্রী পরকীয়া করলে ‘পুরুষ অধিকার সংগঠন’ বা ‘যুবক ও বৃদ্ধ নির্যাতন আইন’ এদেশে নেই।
তাই, দীর্ঘ ৮ বছর প্রেম করার পর যখন প্রেমিকার সাথে কোনো বিসিএস ক্যাডারের বিয়ে হয়ে যায়, তখন প্রেমিক থানায় গিয়ে বলতে পারেনা— দারোগা সাহেব, ওই মেয়েটা আমাকে বিয়ের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ধ্বর্ষণ করেছে, আমার টাকা পয়সা সব আত্মসাৎ করে নিয়ে গেছে।
— বিয়ে করলে ‘বৈবাহিক ধ্বর্ষণ’-এর কেস খেতে হবে
— পরকীয়ায় বাধা দিলে লিঙ্গ হারাতে হবে
— তালাক দিতে চাইলেও গলাকাটা অ্যামাউন্টের মোহরানা শোধ করতে হবে
— বিয়ে না করে লিভ-টুগেদার করলেও ‘বিয়ের প্রলোভনে ধ্বর্ষণ’ মামলা খেতে হবে
আল্টিমেটলি যেটা দাড়ালো, হালাল-হারাম সব সেক্টরেই পুরুষরা ধরা খেয়ে যাচ্ছে। আপনি হারাম প্রেম করেন বা হালাল বিয়ে করেন, যেই লাউ সেই কদু। নারীবাদীর পাল্লায় একবার পড়তে পারলেই হলো। আপনাকে আখের মত চিবড়ে রস বের করে ছেড়ে দেবে। এজন্য, বিয়ে করার আগে খুব সাবধান। মেয়ে যদি নারীবাদী হয়, বা নারীবাদীদের সাথে গোপন আঁতাত থাকে, তাহলে সেখান থেকে হাজার মাইল দূরে থাকবেন।
সেদিন দেখলাম, ফেমিনিস্ট ফ্যাক্টরে লেখালেখি করে বলে এক মেয়ের বিয়ে ভেঙে গেছে। পাত্র পক্ষের দূরদর্শিতাকে সাধুবাদ দিতেই হয়। অন্তত একটা ছেলের লাইফ নিশ্চিতভাবে হেল হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
এই পয়েন্টের শেষ কথা, বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্রীর (এবং পাত্রেরও) দ্বীনদারিত্বকে ফার্স্ট প্রায়োরিটি দিবেন। দ্বীনদার নারীগণ ফেমিনিস্ট হওয়ার পসিবিলিটি খুবই কম। কারণ তারা আল্লাহর ভয়ে অশ্লীলতা পরিহার করে চলে। আর যদি অন্যকিছুকে (চেহারা, চামড়ার রঙ, ডিগ্রী, onas, mastas, hayarestady ইত্যাদি) প্রায়োরিটি দেন তাহলে দেখাগেল, বউয়ের রূপ গুণ যোগ্যতা সবই পেলেন, কিন্তু ‘বউকে’ পেলেন না।
আমাদের দেশের একটা প্রাইভেট ভার্সিটি আছে, ওখানকার মেয়েরা তো সোজাসাপটাই বলে দেয়— **U-তে পড়ছি কি তোরে ভাত রেঁধে খাওয়ানোর জন্য? তুই রান্না শেখ, নইলে বুয়া রাখ।
বাপ্রে বাপ! প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়েছে। সে কি চাট্টিখানি কথা? কমসে-কম আট্টিখানি কথা!
১২. কমপ্লিটলি পার্সোনালিটিলেস কিছু ছেলে আছে যারা মেয়েদের লেজে লেজে ঘুরতে খুব পছন্দ করে। মেয়েদের সাথে কারণে-অকারণে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া, পাত্তা না দিলেও হ্যাংলামি-ফাতরামি করে অ্যাটেনশন সিক করার চেষ্টা করা, মেয়েদের কমেন্ট বক্সে গিয়ে সাহিত্যচর্চা কিংবা তেলের আড়ৎদারি করা ইত্যাদি হচ্ছে এদের বৈশিষ্ট্য। সোজা বাংলায় এদের বলা হয় লুইচ্চা।
এই লুইচ্চা আবার দুই কিসিমের হয়।
এক. বখাটে
এরা রাস্তাঘাটে মেয়ে দেখলে শিস দেয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। এমনকি ইশকুল-কলেজ-ভার্সিটিতে যেসব ছেলেরা মেয়েদেরকে পটানোর জন্য তাদের পিছন পিছন ঘুরে একটুয়াদ্দুক রোমিও সাজার চেষ্টা করে, এরাও এই শ্রেণিভূক্ত। আর যে বা যারা এই ক্যাটেগরীভূক্ত, সে বা তারা এক শব্দে ‘বখাটে’ হিসেবে পরিগণিত হবে। এখন সে এলিট ক্লাস ফ্যামিলি থেকে আসুক বা বস্তি থেকে আসুক, চরিত্রে উপরোল্লিখিত গুণাবলী থাকা মাত্রই সে বখাটে তকমা পাওয়ার হকদার।
দুই. সুশীল
এরা বখাটেদের মত খুল্লুমখুল্লাভাবে লুচ্চামি করবে না। এরা এমনভাবে লুচ্চামি করবে, আপনি ধরতেই পারবেন না যে ওটা লুচ্চামি। কেন? কারণ যার সাথে লুচ্চামি করা হচ্ছে সে ওটাকে ‘এনজয়’ করছে! তার কাছে ওটা স্বাভাবিক।
যেমন, একটা উদাহরন দিই। এক মহিলা খুব সুন্দর করে সাজুগুজু করে, জিন্স-টপ্স পরে ঢ্যাংঢ্যাং করে রাস্তায় বের হলো, তাকে দেখে আধডজন রিক্সাওয়ালা তার উপর মৌমাছির মত হুমড়ি খেয়ে পড়লো,
— আফা কই যাবেন? আমাট্টায় আসেন, আমাট্টায় মেশিন আছে।
— না না আফা! ওর মেশিনে চার্জ নেই। আমাট্টায় আসেন, আমাট্টায় নরম সীট আছে।
এখন এই মহিলা অফিসে যাবে, এসির তলায় বসে আরাম করে ফেসবুকটা খুলবে, তারপর দরদ মাখায়ে একটা স্ট্যাটাস লিখবে— অ্যাই রিক্সাওয়ালারা সব ছ্যাঁচড়া, অ্যাই রিক্সাওালারা সব লুইচ্চা, অ্যাই রিক্সাওয়ালারা সব অশিক্ষিত, আনপাড়াহ, গাইয়া, ক্ষ্যাত। অ্যাই রিক্সাওয়ালাদের ঘরে মা-বোন নাই?
ঠিক ওই মহিলাই যখন ফেলফি খিঁচে আপ্লোড দিবে, তখন তার পুরুষ কলিগরা এসে কমেন্ট করবে,
— উফফ আপা, আপনাকে তো সেইইই লাগতেছে
— উফফ ভাবী! ভাইয়ের কথা ভেবে তো আমার হিংসায় গা জ্বলে যাচ্ছে!
— (আরও কিছু বলতাম, কিন্তু… থাক! আর বলবো না)
যাইহোক, এসব কমেন্ট পড়ে ওই মহিলা আনন্দের আতিশায্যে তালগাছের মাথায় উঠে যায়। এই কমেন্টগুলো যে তাকে (চোখ দিয়ে) উপভোগ করার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া, এতটুকু বোঝার মত ‘বোধ’ তার নেই। তার কাছে এগুলো প্রশংসা-ই মনে হয়।
তাহলে ব্যাপার যেটা দাড়ালো,
তাকে উপভোগকারী যদি একটু হাই ক্লাসের হয়, তাহলে ঠিক আছে। কিন্তু তাকে উপভোগকারী যদি রাস্তাঘাটের নিম্নশ্রেণীর লোক হয়, তাহলে সেটা আনকালচারড, পার্ভার্টনেস ইত্যাদি।
এই যে হাই ক্লাস বা এলিট ক্লাসের লোকেরা সুশীলগিরি করে বখাটেপনাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে, এটার ফায়দা নিচ্ছে কারা? সবাই। সবাই যখন দেখছে— আরে! ভদ্রভাবে লুচ্চামি করলে তো কেউ লুচ্চা ভাবছে না, তাহলে ভদ্রভাবেই লুচ্চামি করি; সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না।
এরপর থেকেই হাই ক্লাস, মিডল ক্লাস, লো ক্লাস সবার মধ্যে বখাটেপনার আধুনিক ভার্সন তথা ‘সুশিলগিরি’ সেটাপ হয়ে গেছে। সুশীলতা বজায় রেখে যেকোনো ধরণের লুচ্চামি করা যাবে, সেটা বৈধ।
যেমন, এই যে আমাদের চ্যানেল আই লাক্স সুপারস্টার! বিচারকরা একেকজন পার্টিসিপ্যান্ট এর প্রশংসা করে কি বাবা রে বাবা! নিজের বউকেও ওসব বলতে গেলে শরম লাগে। একে তো চোখের সামনে একগাঁদা আর্ধনগ্ন মেয়ে দেখে মজা নেওয়া যায়, সেই সাথে রসালো রসালো সুড়সুড়ি জাগানিয়া কথাবার্তা বলা যায়, আর কি লাগে!
এবার আসি পুরুষ নারীবাদীর প্রসঙ্গে। পুরুষ কেন নারীবাদে যোগ দেয়? হুম, পুরুষের নারীবাদে যোগ দেওয়ার সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হলো, সুশীলতার ফায়দা লুটা।
এরা বলবে, নারী তুমি এগিয়ে যাও।
নারী এগোতে থাকে, আর এরা পেছন থেকে খুব গভীরভাবে নারীকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। নারীকে এগোতে না দিলে এই সুযোগ পাওয়া যেত? যেতনা।
দুই পুরুষ নারীবাদীর দেখা হলো,
— আরেহ, ভালো তো?
— আর ভাল থাকি কী করে!
— কেন কী হলো আবার?
— আরে ভাই আর বইলো না। দেশে নারীদের কোনো অধিকারই নেই। একটা পুরুষ যেভাবে চলতে পারে, একটা নারী সেভাবে চলতে চাইলে তাকে যে কত কথা শুনতে হয়!
— কিন্তু হয়েছে টা কী?
— দ্যাখো না ভাই, গরম লাগলে ছেলেরা কত সহজে জামা খুলে ফেলতে পারে। একটা মেয়ের কি সেই অধিকার আছে?
— আরে তাইতো!! ঠিক, এই সমাজ হিপোক্রেট। এই সমাজের হিপোক্রেসি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। হ্যাটস অফ। (মনেমনেঃ আজ পাশা খেলবো রে শাম….)
যদ্দুর মনে পড়ে, জনাব তসলিমা নাসরিন একদা বলেছিলেন, পুরুষ যদি দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারে, নারী কেন নয়? নারীর কেন সেই অধিকার থাকতে পারবে না?
একদা প্রথম আলোর একটা ম্যাগাজিনে ‘শাড়ি’ শিরোনামে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের একটা লেখা ছাপা হয়েছিল। সেখানে তিনি লিখেছেন,
‘শাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ অথচ শালীন পোশাক। …..নারী শরীরকে যতটুকু অনাবৃত রাখলে তা সবচেয়ে রহস্যচকিত হয়ে ওঠে, পোশাক হিসেবে শাড়ি তারই উপমা। শরীর আর পোশাকের ওই রমণীয় এলাকা বিভাজনের অনুপাত শাড়ির রচয়িতারা কি জেনে নাকি না-জেনে খুঁজে পেয়েছিলেন তা বলা না গেলেও এর পেছনে যে গভীর সচেতন ও মুগ্ধ শিল্পবোধ কাজ করেছিল, তাতে সন্দেহ নেই। আধুনিক শাড়ি পরায় নারীর উঁচুনিচু ঢেউগুলো এমন অনবদ্যভাবে ফুটে ওঠে, যা নারীকে করে তোলে একই সঙ্গে রমণীয় ও অপরূপ। শাড়ি তার রূপের শরীরে বইয়ে দেয় এক অলৌকিক বিদ্যুৎ হিল্লোল।’
আহা! কি চমৎকার সাহিত্যকর্ম। পড়লেই যেন শরীরের মধ্যে কেমন একটা অশরীরী কম্পন শুরু হয়ে যায়।
হ্যাঁ, এইসব লুচ্চামিই তো করতে হবে। লুচ্চামি করে, নারীর কোথায় কতটুকু উঁচু, কোথায় কতটুকু নিচু সেটা পর্যবেক্ষণ করে সাহিত্যাকারে বর্ণনা করে যদি দুয়েকবেলা ভাত-কাপড়ের সংস্থান হয়, সেইসাথে শ’খানেক নারীর সান্নিধ্য পাওয়া যায়, মজা না? বিনা পয়সায় কতকিছু!
ওদিকে আমাদের গুণদা, মিস্টার নির্মলেন্দু গুণ, উনি রিসেন্টলি বলেছেন— সৌন্দর্যের সুষম বিকাশ আছে পরিমনির দেহাবয়বে।
হাঁ, তাতো! নারীদেহের স্তুতিবন্দনা ব্যাতীত সাহিত্যের মজমা জমে নাকি? বুড়ার এক ঠ্যাঙ কবরে চলে গেছে, তবুও লুচ্চামি কমেনি।
ফেসবুকের নারীবাদী গ্রুপগুলোতে প্রায়ই এরকম দেখা যায়,
নারীবাদী নারী— নারী নির্যাতনের জন্য সব দোষ পুরুষের।
নারীবাদী পুরুষ— হ্যাঁ, ঠিক!
না.বা.না— সব পুরুষকে মেরে ফেলতে হবে।
না.বা.পু— হ্যাঁ, একদম!
না.বা.না— পুরুষের চেয়ে কুকুরও ভাল। নারীদের কোনো পুরুষ দরকার নেই।
না.বা.পু— ঠিক ঠিক, একদম ঠিক!
না.বা.না— সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পুরুষের দরকার নেই; Dog’s sperm is enough.
না.বা.পু— আরে তাই তো, এভাবে তো ভেবে দেখিনি!
না.বা.না— পুরুষমুক্ত সমাজ চাই!
না.বা.পু— নারীর দাবী মানতে হবে! নারী তুমি এগিয়ে যাও!! নারীর অধিকার দিতেএএ হবে দিতেএএ হবে!!!
Meanwhile…..
না.বা.না— (উফফ, ছেলেটা কি কিউট! নারীদেরকে এগিয়ে যেতে বলছে!! যাই, এখনই ওকে একটা প্যানথার গোল্ড মেডেল দিয়ে আসি….)
না.বা.পু— (এই তো! এইতো চাচ্ছিলাম!!)
হায় রে মানুষ। মানুষ যে এত পার্সোনালিটিলেস হতে পারে সেটা পুরুষ নারীবাদী না দেখলে বোঝা যায় না।
পুরুষ নারীবাদীদেরকে যেসব বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি অ্যাক্টিভ থাকতে দেখা যায় তা হলো—
ক. স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে বস্তায় ভরে নিয়ে যাওয়া লাগবে কেন! সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়ে নিয়ে যেত হবে, যাতে এলাকার লোকজন জানতে পারে তোমার পিরিয়ড হচ্ছে। আর, যারা এ নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে, তারা সব নারীবিদ্বেষী, তারা নারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে চায়, নারীর স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চায়।
খ. পিরিয়ড কোনো লজ্জার বিষয় না, বরং এটা ন্যাচারাল বিষয়। এটাকে ট্যাবু করে রাখার কোনো মানে হয়না। তাই এটা নিয়ে সবার সাথে ফ্রী-লি কথা বলতে হবে। তোমার পিরিয়ড হলে তোমার ভাইয়াকে বলবা, তোমার আব্বুকে বলবা, তোমার স্যারকে বলবা, তোমার পাশের বাসার আঙ্কেলের সাথেও এসব নিয়ে আলাপ করবা। ফলে এটা নিয়ে সমাজে যে জড়তা আছে, সেটা কেটে যাবে।
(এইখানে অবশ্য আমার কিছু প্রোপোজাল আছে। পিরিয়ড যেমন ন্যাচারাল, তেমনি অন্যান্য যেগুলো ন্যাচারাল বিষয় আছে সেগুলোকেও ট্যাবু করে রাখা যাবে না। যেমন— জনসম্মুক্ষে সশব্দে গন্ধযুক্ত বায়ুত্যাগ করা। যেহেতু এটা ন্যাচারাল বিষয়, সেহেতু এটাকে ট্যাবু করে রাখার কোনো মানেই হয় না। তাছাড়া, এসব প্রাকৃতিক ডাক বেশিক্ষণ চেপে রাখলে শরীরেরও ক্ষতি। আশাকরি, নারীবাদী মুক্তমনাগণের এ ব্যাপারটা বোঝার মত ‘বোধ’ আছে।)
গ. নারী কি তার পছন্দমত পোশাক পরবে না? নিজের পোষাকটুকু পছন্দ করার মত স্বাধীনতাও কি নারীর থাকতে পারবে না? (মেয়েরা যদি ছোটখাট ড্রেস পরে রাস্তায় না নামে, তাহলে আমরা আমাদের চোখের ক্ষুধা মিটাবো কিভাবে?) মেয়েদেরকে ঘরে বন্দী রাখা চলবে না। নারী তুমি বেরিয়ে এসো, দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়। (ওয়েস্টার্ণ ভিডিও দেখে আর কতকাল কাটাবো বলো? এবার একটু দেশী আইটেম দেখতে না পারলে হচ্ছেনা..)
অধিকাংশ নারীবাদী পুরুষগণ নারীদের পাশে দাড়াতে গিয়ে বসে পড়ে, তারপর শুয়ে রেস্ট নেয়। এরা ওই শোয়ার ধান্ধা নিয়েই এত তেল মারে।
ওদিকে আজাদ বংশের সুযোগ্য কর্ণধার, হুমায়ূন আজাদের গুণধর পুত্র মিস্টার অনন্য আজাদ তার দুই বোনের সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে আপ্লোড দিয়ে ক্যাপশন দিয়েছিল ‘আমার দুই সেক্সি বোনের সাথে….’। বোনকে সেক্সি বলার কারণে আমজনতা অনন্য অজাতকে ধুয়ে দিল। কিন্তু তার একটা কমেন্ট আমার মন কেড়ে নেয়— ‘পরিবর্তন আনতে হলে আঘাত করতে হয়।’
বোনকে সেক্সি বলাটা ছিল তার প্রথম আঘাত। তার সাথে বেড-সিন শেয়ার করাটা হতে পারতো তার দ্বিতীয় আঘাত। এ আঘাতে সমাজের আনাচে-কানাচে আসতো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। পরিবর্তনের জোয়ারে মনে করেন, কি যে একটা অবস্থা হয়ে যেত! কিন্তু, দুঃখের বিষয়, আমরা তার রেভোল্যুশনারি আঘাতগুলো এখনো পাচ্ছি না।
যাকগে। এখন কিছু এক্সট্রা অর্ডিনারি নারীবাদী পুরুষ নিয়ে কথা বলি।
শিমুল-পারুল সিনেমা যারা দেখেন নি, তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা। যাইহোক, ওই সিনেমার একটা বিশেষ দৃশ্য এমন ছিল যে, নায়ককে কেউ পিটালে নায়িকার গায়ে ব্যথা লাগত। নায়িকা ১০০ মিটার দূরে থাকুক, বা ১০০ মাইল দূরে থাকুক; সে কিভাবে কিভাবে যেন টের পেয়ে যেত নায়ককে কেউ মারছে।
এই সিন কিছু নারীবাদী পুরুষের মধ্যেও দেখা যায়। কোনো মেয়ের পিরিয়ড শুরু হলে এদেরও পিরিয়ড শুরু হয়, এরাও ব্যথায় কাতরাতে থাকে। রক্তে এদের প্যান্ট ভিজে যায়। এরা দোকানে গিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন চাওয়া শুরু করে। (ছবি কমেন্টে)
কিছু না.বা.পু আছে যারা গফের ইউজ করা ন্যাপকিন নাক-মুখের সাথে লাগিয়ে মাথার সাথে টেপ মেরে দেয়। এদ্বারা তারা নাকি নারীর পিরিয়ডের কষ্টটা শেয়ার করে নারীকে মানসিক সাপোর্ট দেয়। হায় মা’বুদ, আমি পাগল হয়ে যাব এসব দেখে!!! (ছবি কমেন্টে)
…
পাঠকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা—
বাহ্যদৃষ্টে নারীবাদের উদ্দেশ্য সৎ মনে হলেও তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ন আলাদা যা তাদের কার্যবিধি পর্যবেক্ষন করলে সহজেই বোধগম্য হয়। সুতরাং, নারী-পুরুষ সকলেরই সমাজের এই চতুর্থ সম্প্রদায় সম্পর্কে সচেতন হওয়া অতীব জরুরী।
প্রথমত, নারীবাদ হলো পুঁজিবাদীদের দাবার গুঁটি। আবার, কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড চলে নাস্তিক-সেক্যুদের নীতির ভিত্তিতে। সুতরাং, তারা নারীবাদীদেরকে ব্যবহার করে তাদের সেক্যুলারি ও নাস্তিক্যবাদী প্রোপাগান্ডা চালিয়ে অন্যান্য নারী-পুরুষের ঈমান, চরিত্র, শ্লীলতা ধ্বংস করে দিতে চায়। কারণ, দুনিয়াবাদী হর্তাকর্তাদের কাছে ধর্ম ও নৈতিকতা মাত্রেই অপ্রয়োজনীয় বিষয়। তাদের কাছে এগুলো সমাজের অগ্রগতির পথে বাধা। তাদের স্বার্থ হাসিল করতে গেলে সেক্যুলারিজমের পক্ষে বিপুল জনমত সৃষ্টি করতে হবে। এতে তারা এমনসব অ্যাক্টিভিটি রান করবে যাতে ধর্ম, বিশেষ করে দ্বীন ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাছাড়া কর্মক্ষেত্রে অধিক পরিমাণ নারীর উপস্থিতিও আরেকটা ব্যাবসায়িক পলিসি। নারীর সিডাকটিভিটিকে ব্যাবহার করে ব্যাবসা খুব দ্রুত উপরে তুলে নেওয়া যায়, আর তাই তাদের প্রচারণাগুলোও বেশিরভাগ নারী-কেন্দ্রিক। সুতরাং, নারীদের এগুলো অনুধাবন করতে হবে। আপনাদেরকে যে ‘ইউজ’ করা হচ্ছে, টাকার বিনিময়ে আপনি যে নিজের ইজ্জত বিকিয়ে ফেলছেন, দুনিয়ার দু-পয়সার খ্যাতির বিনিময়ে আখিরাতের অপরিসীম লজ্জা, লাঞ্ছনা কিনে নিচ্ছেন, এতটুকু বোধ আপনার মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে।
সমাজের চিকিৎসা, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার ক্যারিয়ার যেন আপনাকে পরিবার থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। আপনার ক্যারিয়ার যেন আপনার জাহান্নামের ইন্ধন না হয়। আপনার ক্যারিয়ার যেন আপনার সন্তানকে বিপথগামী হওয়ার সুযোগ করে না দেয়। মনে রাখবেন, আখিরাতে প্রতিটা বিষয়ের উপর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাই টু পাই হিসাব দেওয়া লাগবে। কোনো কাজ করতে যাওয়ার আগে মাথায় রাখবেন, আল্লাহর কাছে এটার কী জবাব দিবেন। নিজের অপরাধ আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করে দিবেন, কিন্তু আপনার করে যাওয়া কোনো কাজ যদি দিনের পর দিন অন্যান্য মানুষের মধ্যে ফিতনা ছড়াতে থাকে, এর ফলে তারা যদি পথভ্রষ্ট হয় এবং আপনাকে যদি তারা ক্ষমা না করে তাহলে কিন্তু আল্লাহ ক্ষমা করে দিলেও হাক্কুল ইবাদ (বান্দার হক) নষ্ট করার জন্য পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
ভাইয়েরা বিয়ে করার সময় দেখেশুনে নিবেন পাত্রীর সাথে কোনো নারীবাদীর গোপন আঁতাত আছে কিনা। নারীবাদীর পাল্লায় পড়লে কিন্তু জীবন শেষ।
গার্জিয়ান যারা আছেন, ছেলেমেয়েকে সময় দিবেন। কাজের দোহাই দিয়ে ছেলেমেয়েদেরকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না। নইলে পরবর্তী জেনারেশনটা হবে বুয়াসুলভ জেনারেশন। তারা সমাজের ভাল কিছু তো করতে পারবেই না, বরং যাবতীয় ফাহেশাপনায় সমাজটাকে ভরে ফেলবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
লেখকঃ- Ruhul Kabir