১ম পর্বের পর থেকে……(২য় পর্ব)
–
৬. একদা…. সাদিয়া জাহান প্রভার একটা নাটক দেখেছিলাম। নাটকের নাম ‘পারফর্মার’। এর ঘটনাটা বলছি—
সে হচ্ছে একজন অভিনেত্রী। সে যখনই কোনো চরিত্রে অভিনয় করে তখন ঐ চরিত্রটা নিজের মধ্যে ধারণ করে নেয়, যাতে অভিনয়ের সময় খুব সহজে কাজটা ফুটিয়ে তুলতে পারে।
এক পর্যায়ে তার কাছে একটা কাজের অফার আসে। পতিতার বায়োগ্রাফি নিয়ে। যেহেতু তাকে পতিতার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, সেহেতু সে ভাবে পতিতাদের জীবনটা তাকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, তাদের মন-মানসিকতা কেমন সেটা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে। তাহলেই সে অভিনয়টাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবে।
যেই ভাবা সেই কাজ। চলে যায় দৌলতদিয়া পতিতালয়ে। সেখানে এক পতিতার ঘরে একসাথে থাকতে শুরু করে। যখন কোনো কাস্টোমার আসে তখন সে ঘরের বাইরে চলে যায়, কাস্টোমার বিদায় হলে ঘরে ঢোকে।
পতিতারা কিভাবে কাস্টোমারদের সাথে দরদাম করে সেটা পর্যবেক্ষণ করে একদিন সে নিজেও তা প্র্যাক্টিস করতে যায়। কিন্তু পূর্বে এমনটা করার অভিজ্ঞতা না থাকায় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
এই নাটকের একটা দৃশ্যে দেখানো হয়— উক্ত পতিতা প্রভার সাথে গল্প করার এক পর্যায়ে বলছে, ‘আমার এই বাচ্চাটা যে ওর বাপের না অন্যকারো সেইডা আমি জানিনা। না জানলাম তাতে কী হইছে? কিয়ামতের দিন তো সন্তানগো মা’র নাম ধইরাই ডাকবো।’
বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই! এটা শোনার জন্য আমি একদমই প্রস্তুত ছিলাম না।
নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে পতিতার জীবনের মাহাত্ম্য (!) তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন গৃহিনীকে গৃহকর্তার ভরসায় বসে থাকতে হয়, একজন পতিতাকে তা করতে হয়না। একজন গৃহিনী স্বাবলম্বী নয়, একজন পতিতা স্বাবলম্বী। মোদ্দাকথা, পতিতাবৃত্তি যে খুব ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়, এই জিনিসটাই ওই নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।
নাটকের একদম শেষ পর্যায়ে প্রভা ওই পতিতালয়েই থেকে যেতে চায়, কারণ তার কাছে এ জীবনটা খুব উপভোগ্য (!) মনে হয়েছে। একজন পতিতার জীবনযাত্রা তার কাছে খুব আদর্শ ও অনুকরণীয় মনে হয়েছে।
এই নাটক দেখার পরে আমি এর ডিরেক্টরকে খুঁজতে লাগলাম। যেটা পেলাম, তিনি একজন মুসলিম নামধারী নারীবাদী। অতঃপর আশ্বস্ত হলাম, একজন নারীবাদী-ই পারে পতিতাবৃত্তিকে প্রোমোট করতে।
এর আগেও বলেছি, নারীবাদীরা কখনও চায় না একটা মেয়ে বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করুক। তারা কোনো না কোনো ছলচাতুরি করে মেয়েদেরকে রাস্তায় টেনে আনবেই। তারা মেয়েদের মাথায় যেভাবেই হোক এটা ঢুকিয়ে ছাড়বে— তোমার যায়গা ঘরে নয়, তোমার যায়গা রাস্তায়।
সেই সাথে পতিতাবৃত্তির মত একটা সামাজিক সমস্যাকে এরা নির্মূল করা তো দূর কি বাত, বরং সেটাকে আরও প্রোমোট করে। লেখালেখি আর এসব নাটক-সিনেমা দিয়ে সেটার পক্ষে সমর্থন সৃষ্টির চক্রান্ত চালিয়ে যায়। এরা একটা পতিতাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারবে না, তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারবে না। বরং এরা ভাল মেয়েগুলোর মনেও পতিতাবৃত্তির প্রতি সমর্থন সৃষ্টি করতে পারবে। নারীর সম্মান ও অধিকার নয়, বরং নারীকে বেইজ্জতি করাটাই নারীবাদের মিশন।
৭. সময়টা ২০০৬~২০০৭ সাল। আমি তখন অনেক ছোট। তখন যেখানে থাকতাম, ওই এলাকার মহিলাদের নিয়ে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বা সোমবার তালিম হত। এলাকার যেকোনো একটা বাড়িতে তালিম বসতো, আর অন্যান্য বাসা থেকে মহিলারা যেত সেখানে। আমার আম্মুও যেত। যেহেতু খুব ছোট ছিলাম, তাই আমাকেও সাথে নিয়ে যেত।
আমি আম্মুর কোলে বসে দা’ঈ আন্টিদের বয়ান শুনতাম, যদিও কিছু বুঝতাম না। সবাই মোনাজাত ধরলে আমিও ধরতাম, সবাইকে দেখতাম কাঁদছে বা কাঁদার চেষ্টা করছে। আমি এ-ও বুঝতামনা সবাই কাঁদছে কেন? কেউ তো মারা যায়নি!
যাইহোক, এভাবে পাড়া-মহল্লায় প্রতি সপ্তাহে তালিমের প্রচলন ছিল। তখন ঘরেঘরে দ্বীনি নসীহত চালু ছিল, মহিলারা যারা বেশি কিতাবাদি পড়তেন না তারাও অনেক কিছু জানতে পারতেন এসব তালিমের মাধ্যমে। তখন ঘরেঘরে মহিলাদের মধ্যে শালীনতা ছিল, ধার্মিকতা ছিল, তাদের আচার-আচরণও ছিল শোভনীয়। তালিমগুলো থেকে মা বোনেরা নামাজ পড়তে উৎসাহিত হত, দ্বীন চর্চার প্রতি ঝুকতো।
২০০৮-০৯ সালের পর থেকে বাড়িবাড়ি তালিমের ট্রেন্ড হারিয়ে গেল। ২০১০ সালে স্টার জলসা সহ এরকম আরও কিছু চ্যানেলের আবির্ভাব ঘটলো। আমাদের মা-বোনেরা তখন একটু একটু করে দ্বীনের পথ থেকে সরতে থাকলো আর একটু একটু করে টিভি-সিরিয়ালের প্রতি মোহাবিষ্ট হতে থাকলো। অনেকটা SN1 reaction এর মত।
তবুও কিছুদিন টিভি থেকে ইসলামী জ্ঞান আহরন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু বছর তিনেক পর ইসলামী চ্যানেলগুলোও সব বন্ধ করে দেওয়া হলো। ফলে আমাদের মা-খালারা কমপ্লিটলি দ্বীনের দাওয়াত থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলো এবং ধীরেধীরে যাবতীয় কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্ট-এর মধ্যে ডুবতে থাকলো।
একদিকে দ্বীনের দাওয়াত বন্ধ হলো, অন্যদিকে অশ্লীলতার হাতছানি বৃদ্ধি পেল, সেইসাথে যুক্ত হলো নারীদের ব্রেইনওয়াশ। ধীরেধীরে তাদের টেনে নামানো হলো রাস্তায়। তবু যদি পর্দাটা ঠিকমত করানো যেত তাও এক কথা ছিল। কিন্তু না! পর্দা করা মানেই মধ্যযুগীয় বর্বরতা, পর্দা মানেই নারীকে বস্তায় বন্দী করে রাখা। তাই পর্দাকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে নারী হয়ে উঠলো অর্ধউলঙ্গ অর্থাৎ প্রগতিমনা, স্মার্ট এবং স্বাধীন।
ওদিকে আমাদের বাবা-চাচা-ভাইয়েরাও পশ্চিমা সংস্কৃতিকে ধরে নিল আধুনিকতার মডেল। পশ্চিমা স্কেল অনুযায়ী তারা তাদের ছেলেমেয়ে, স্ত্রীদেরকে নীতি-নৈতিকতার বদলে শিক্ষা দিতে লাগলো তথাকথিত আধুনিকতা। আমাদের মা-বোনেরাও একেএকে ভুলে যেতে থাকলো ইসলামের বিধিনিষেধ। মাস-মিডিয়ার কল্যাণে ধীরেধীরে তাদের মাথায় পুশইন করানো সম্ভব হলো— ঘরে বসে থেকে নারী কিছুই পায়নি। নারী যে পরিমাণ কাজ করে সেই পরিমাণ সম্মান ফ্যামিলি থেকে পায়না। নারী তার ন্যায্য সম্মান পাবে যদি সে রাস্তায় নেমে আসে, যোগ দেয় কর্মক্ষেত্রে। (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)
এমন এক প্রচারণা চলতে চলতেই ডাক পড়লো— দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়।
ব্যাস… কার্য হাসিল!!
যে উদ্দেশ্যে নারীদেরকে ঘরের বাইরে আনার এতএত ফন্দিফিকির আঁটা হয়েছে এতদিন ধরে, তা এবার ‘উপভোগের’ পালা। নারীও দেখাতে থাকলো, যারা দেখার জন্য এতদিন ধরে উন্মুখ হয়ে বসে ছিল তারাও মনপ্রাণ ভরে দেখে নিল; আর এভাবেই চলতে থাকলো বছরের পর বছর।
আল্টিমেটলি নারী হয়ে গেল পণ্য। ছেলেদের শেভিং ক্রীমের অ্যাডেও নারী থাকবে, ছেলেদের বাইকের অ্যাডেও নারী থাকবে, ছেলেদের বডি-স্প্রের অ্যাডেও নারী থাকবে, পত্রিকায় কোনো পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে সেখানে শুধু মেয়েদেরই ছবি দেওয়া হবে, ভাবখানা এমন যেন এদেশে ছেলেরা পরীক্ষাই দেয় না। প্রথম আলোর প্রতিটা পত্রিকার প্রথম পাতায় নিশ্চিতভাবে কোনো না কোনো নারীর ছবি দেওয়া হবেই। (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)
আসলে, কোনো টিভিসি বা খবর বা অ্যানিথিং ইলস্ ভিডিও যেখানে নারীর প্রয়োজন-ই নেই সেখানেও একটা নারী রাখা হয় যাতে সিডাকটিভ আমেজে পাবলিক একটু বেশি খায়।
অনেক কোম্পানি নারীর সমানাধিকারের কথা বলে নারীকে কর্মে নিয়োগ দেয় ঠিকই। তবে তাদের কাছে সমানাধিকারের ইকুয়েশন একটু আলাদা। তাদের কাছে ৫০% নারী = ৫০% পুরুষ নয়, বরং ৮০% নারী = ২০% পুরুষ হচ্ছে সমানাধিকারের সমীকরণ। তারা নারী শ্রমিক বেশি রাখেন, কারণ তাদের সিডাকটিভিটি কাজে লাগিয়ে কাস্টোমারদের চিত্তাকর্ষণ করা সহজ হয়। (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)
শুধু এটাই না। নারীদের ইজ্জতমান ধূলিসাৎ করতে তাদেরকে দিয়ে আরও কী কী করানো হচ্ছে জানেন?
একটা সময় ১৮+ জোক্সগুলো কেবল ফেসবুকের কিছু পেইজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা ফেসবুকের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে টিভির পর্দায়। যে জোক্সগুলো পড়তেছি বা দেখতেছি এমনটা জানতে পারলে বাপ-মা নির্ঘাত পিটাবে, পিঠের ছাল-চামড়া তুলে নিবে, সে জোক্সগুলোই এখন টিভির পর্দায় হলাও করে দেখানো হচ্ছে, নারীকে দিয়ে বর্ণিল অঙ্গভঙ্গি করিয়ে উপস্থাপন করানো হচ্ছে। বাচ্চা থেকে বুড়ো যেকেউ ইচ্ছা করলে এখন এসব সুরসুড়ি জাগানিয়া কথাবার্তা শুনতে পারে, যাস্ট টিভি খুললেই। এমনকি বাপ-মা তার ছোটছোট ছেলেমেয়েকে সাথে নিয়েও এসব অনায়াসে দেখতে পারবেন। নাকি বলেন? [৯]
বলি, নষ্টামিগুলো এভাবে দহরম-মহরম করে সম্প্রচার না করলেই কি হত না? ছেলেপেলেরা এমনিই খুব সহজে পর্ণ দেখতে পারে। এখন আর আগের মত এলাকার গান লোড করার দোকানে গিয়ে বসে থাকা লাগে না। সবার হাতে হাতেই মোবাইল আছে, ডাটাও খুব সহজলভ্য। এতকিছুর পরেও কেন সরাসরি টিভিচ্যানেলেই এসব সস্তা সুড়সুড়ি জাগানিয়া প্রোগ্রাম রাখা লাগে? যে ছেলেমেয়েগুলোর কাছে মোবাইল অ্যাকসেস নেই, যারা বাবা-মা’র তত্ত্বাবধানে থেকে কিছুটা হলেও অশ্লীলতা থেকে রক্ষা পেয়েছে, তাদেরকেও একদম ফ্যামিলি-লেভেল থেকেই নির্লজ্জ-বেহায়া-অসভ্য বানাতে না পারলে হচ্ছেনা??
এই ছেলেপেলেগুলো যখন ছোটবেলা থেকে এসব সস্তা বিনোদন দেখেদেখে বড় হয়, তখন এদের অবচেতন মনে ইভটিজিং, পরকীয়া, নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ন চিন্তাভাবনা করাটা ‘বৈধ’ হিসেবে গেঁথে যায়। কারণ এসব কন্টেন্ট দ্বারা এগুলোকেই প্রোমোট করা হচ্ছে। ভিডিও দুটো দেখলেই বুঝবেন।
এই ছেলেরাই যখন বড় হয়ে ধ্বর্ষণ করবে, তখন দোষ হয়ে যাবে কার? পুরুষের! অথচ ছেলেটাকে যে এতদিন ধরে অসভ্য বানিয়ে তোলা হয়েছে সে দায় কোনো নারী নেবে না।
অশ্লীলতা আর অসভ্যতা একদা ছিল ট্যাবু, এখন হয়েছে ট্রেন্ড। এখন বাপ-মা আর সন্তান একসাথে টিভির সামনে বসে কন্ডমের বিজ্ঞাপনের রগরগে দৃশ্যগুলো (সফটকোর পর্ণ) অবলোকন করে, কারও মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই। এতে করে পিতামাতার সাথে সন্তানের গোপনীয়তার যে পর্দাটা, সেটা আর থাকলো কই? মেয়েদের প্রাইভেট বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতে হবে, ঠিক আছে, সচেতনার অবশ্যই দরকার। তাই বলে এভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে? (কমেন্টের ছবি দ্রষ্টব্য)
এমন চলতে থাকলে কোনদিন না আবার ছেলে তার মাকে বলে বসে, ‘আম্মু আম্মু! তোমার কি স্যানিটারি ন্যাপকিন লাগবে? লাগলে আমাকে বইলো, আমি এনে দিব।’
সচেতনতার নামে নারীদের পিরিয়ড, স্যানিটারি ন্যাপকিন, মেন্সট্রুয়াল ক্যাপ, কনডম, গর্ভনিরোধক পিল ইত্যাদির তো বিজ্ঞাপণের শেষ নেই। ছেলেদের যে স্বপ্নদোষ হয়, এটা নিয়েও অনেক ছেলের মধ্যে সংশয়, হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হয়, ছেলেরাও তাদের বাপ-মার সাথে এসব বিষয় শেয়ার করার সাহস পায়না। কই? ছেলেদের এসব নিয়ে তো কোনো সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন তৈরী হয়না! এটাও তো পিরিয়ডের মতই ন্যাচারাল বিষয়। তাহলে হয়না কেন? নাকি ছেলে হয়ে জন্মেছি বলে সচেতনতার দরকার নেই? তাহলে এটা কীসের সমানাধিকার? এটা কি সমানাধিকারের নামে নারীকে পণ্য বানানো নয়?
একজন নারী পিরিয়ডের মধ্য দিয়ে মা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে তাই তার জন্য প্ল্যাকার্ডে ‘happy to bleed’ লিখে সেলিব্রেট করা হয়। স্বপ্নদোষের মধ্য দিয়ে ছেলেরাও যে পিতা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে, কই, সেসব নিয়ে তো কোনো প্রচারণা নেই! তখন তো কোনো মিডিয়া ‘happy to nocturnal emission’ লিখে সেলিব্রেট করতে এগিয়ে আসেনা! এ কেমন বিচার???
এতকিছু বলার মূল উদ্দেশ্য এটা বুঝানো যে— নারীদেরকে নিয়ে যেমন বাড়িবাড়ি গিয়ে তালিম করা হত, একই উপায়ে নারীদের সচেতনতার কাজটিও নারী বা নারী-সংগঠন কর্তৃক বাড়িবাড়ি গিয়ে নারীকে সচেতন করার মাধ্যমে করা যেত। এত মাস-মিডিয়ার দরকার ছিল না। নারীকে এভাবে চরিত্রহীন বানিয়ে টিভির পর্দায় উপস্থাপন করার দরকার ছিল না। কিন্তু কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হত।
ব্যাবসায়িক পলিসির মূল ভিত্তি-ই হলো প্রচারণা। কিন্তু সব জিনিস নিয়ে প্রচারণা সহজ নয়। তাই আগে সেটাকে সহজ বানিয়ে নিতে হবে, তারপর প্রচারণা চালাতে হবে। ঠিক এইটাই অ্যাপ্লাই করা হচ্ছে এখনকার নারীদের ক্ষেত্রে। দুম করে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্যাপ ইত্যাদি জিনিসের বৃহৎ প্রচারণা চালাতে গেলে তোপের মুখে পড়তে হত। তাই দ্বীনি দাওয়াত বন্ধ করা হয়েছে, ‘একটু একটু’ করে নারীদের মধ্য থেকে শালীনতা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাকিছু ট্যাবু ছিল তা ট্রেন্ড বানানো হয়েছে, যতই তা অশ্লীল হোক।
অতঃপর নারীদের মধ্য থেকে যখন শ্লীলতার বোধ হারিয়ে গেল, তখন কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড নারীবাদীদের নামিয়ে দিলো প্রচারণায়। এভাবেই সবকিছুর পিছে কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছে কর্পোরেট দুনিয়া। (বলে রাখি, নাস্তিক-সেক্যুদের ঈশ্বর এই কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড)
গত লেখায় বলেছিলাম, সমানাধিকার হচ্ছে আলকাতরা আর, নারী-স্বাধীনতা (বা, নারীবাদ) হচ্ছে নৌকা। নৌকা ভাসাতে গেলে যেমন তার গায়ে আলকাতরা লাগানো জরুরী, তেমনি, নারীবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গেলেও সমানাধিকারের বুলি আওড়ানো জরুরী। আর এই নারীবাদের পেছনকার কলকাঠি নাড়ছে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। সুতরাং, সমানাধিকারে নামে নারীকে পণ্য বানানোর মুল আইডিয়া ভোগবাদী কর্পোরেট দুনিয়ারই, আর নারীবাদীরা তাদের দাবার গুটি এবং সরলমনা নারীগণ হচ্ছে বলির পাঠা। ইজ ইট ক্লিয়ার???
তাছাড়া, নারীবাদী পোর্টালগুলোতে কেন এত ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা চালানো হয় সেটা কি বুঝে এসেছে? যাদের আসেনি, তাদের জন্য বলি— কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড হলো নাস্তিক-সেক্যুদের ঈশ্বর। কর্পোরেটোক্রেসি চায় তাদের পণ্যের মার্কেটিং; এর জন্য চাই নারী। কারণ, বিজ্ঞাপণে নারীর উপস্থিতি সিডাকটিভিটি বাড়িয়ে তোলে, দর্শক সেটা খায় বেশি। কিন্তু নারীদেরকে হাফন্যুড করার পথে ধর্ম একটা বড় বাধা। এজন্য, ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে নারীদের ব্রেইনওয়াশ করা হয়, যাতে তারা নিজেরাই পর্দার বিরোধীতা করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা কিছু পেইড ফেমিনিস্টকে (যে অলরেডী নাস্তিকও) কাজে লাগায়। তারাই এই ধর্মবিদ্বেষকে হাতিয়ার বানিয়ে সরলমনা নারী এবং অধিকার আদায়ের দাবীতে সদ্য নারীবাদে যোগ দেওয়া নারীদের ঘায়েল করে। যাদেরকে সফলভাবে ব্রেইনওয়াশ করা যায়, তারা পর্দার বিরুদ্ধে গিয়ে নেমে পড়ে কর্পোরেটোক্রেসির দাসত্ব করতে।
আর, ছেলেদের ক্ষেত্রে মিডিয়ায় সচেতনতার তেমন কোনো তোড়জোড় দেখা যায়না, কারণ, এর সাথে তেমন কোনো ব্যাবসায়িক স্বার্থ জড়িত নেই। শুধু মুখে সমানাধিকার; মুখোশের আড়ালে টাকার খেলা।
(চলবে….)
রেফারেন্সঃ
[৯] https://youtu.be/7rOtz71nYAE
লেখকঃ Ruhul Kabir ❤