Feminism is Cancer , রুহুল কবির

১ম পর্বঃ

ফেমিনিস্টরা যে কোন ধরণের হিপোক্রেট এবং তারা তাদের অপকর্ম ডিফেন্ড করতে গিয়ে আরও কত অপকর্ম করে বসে, সেটা বর্ণনাতীত। সামগ্রিক বিবেচনায় ফেমিনিজম এক ধরণের ‘সোশ্যাল ক্রাইম’।

প্রথম কথা হলো, একটা মেয়ে কখনো ফিমিনিস্ট হয়ে জন্মায় না, জন্মানোর পর ফেমিনিস্ট হয়। তাহলে সে কেন হয়? কীভাবে হয়? কার জন্য হয়? তার ফেমিনিজমে নাম লেখানোর পিছে কী কী প্রভাবকের হাত রয়েছে?

উত্তরে আসি— প্রতিটা ফেমিনিস্টের ফেমিনিস্ট হওয়ার গল্প একইরকম নয়, রয়েছে নানাবিধ বৈচিত্র্য। একেক জনের ব্যাকগ্রাউন্ড একেক রকম। কয়েক টাইপের ফেমিনিস্টের দৃশ্য তুলে ধরিঃ

১. পারিবারিকভাবে সাপ্রেস্ড ফেমিনিস্ট।

কিছু মেয়ে মুসলিম পরিবারে জন্ম নিয়েও তাদের দাদা-বাবা-চাচা কিংবা ভাইয়ের আচরণে না-ইনসাফি লক্ষ্য করে। সে ভাবে, নারী হওয়ার কারণেই তাকে অর্থ-সম্পত্তি, শিক্ষা, মেধাবিকাশ প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অতঃপর সে তার অধিকার আদায়ের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে, আর এই তাগিদ থেকেই নারীবাদে যোগ দেয়।

বাংলাদেশের পার্স্পেক্টিভ থেকে দেখা যায়, এখানে ৯০% লোক মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ মুসলিমই কেবল জন্মগতভাবে মুসলিম, কর্মগতভাবে নয়। অনেকেই আছেন যারা ধর্মীয় বিধানের ধার দিয়ে তো হাটেনই না, বরং ধর্মের অযুহাত দিয়ে একের পর এক অধর্ম করে বেড়ান। পারিবারিক ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম নয়। নারীর প্রতি আর্থিক, শারীরিক, মানসিক নির্যাতন এখনও থেমে নেই সেসকল পরিবারে। এখনও অনেক বাবা তার মেয়েদেরকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন, যেটা আমি নিজের নিকটাত্মীয় ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যেও পর্যবেক্ষণ করেছি। এ ক্ষেত্রে নারী যদি নারীবাদে যোগ দেয় তবে সে দোষ নারীর নয়, বরং তার পরিবারবর্গের।

২. সেক্সুয়ালি এ্যাবিউজড ফেমিনিস্ট।

ক) এদের কেউকেউ ছোটবেলায় রক্ত সম্পর্কের ঘনিষ্ট আত্মীয় বা দুঃসম্পর্কের আত্মীয় কিংবা পাশের বাসার আঙ্কেলের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার হয়। কেউকেউ না বুঝে নিজের দাদী-চাচী-ফুপীর কাছে ঘটনাগুলো শেয়ারও করে ফেলে, বাচ্চাসুলভ ভঙিমায়। তখনও এরা ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারেনা যে তাদের নিজের সাথে কী হয়ে গেছে।

ছোটবেলা থেকেই এদেরকে কোনোভাবে ভয় দেখিয়ে মুখে কুলুপ এটে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এরপর এরা যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে, একটু একটু বুঝতে শেখে, তখন তাদের মধ্যকার ভয় ক্রমশ রূপ নেয় পুরুষ-বিদ্বেষে। আর সে বিদ্বেষ থেকে বাদ পড়েনা নিজের বাবাও। কারণ, তার বাবা চাইলে অপরাধীর ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতো। তা না করে ফ্যামিলির পক্ষ থেকে অ্যাবিউজিংয়ের ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে যাতে, এত ছোট বয়সেই মেয়েটাকে নিয়ে সমাজে লজ্জার মুখে না পড়তে হয়। এইযে ভিক্টিমকে লুকিয়ে ফেলে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া, এটাই পুরুষবিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট কারণ, আর এই বিদ্বেষ থেকেই তারা ফেমিনিজমে নাম লেখায়।

খ) এই শ্রেণীর অন্য ক্যাটেগরী হলো— বুঝজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার পরও, বয়ফ্রেন্ড কিংবা যাস্টফ্রেন্ড কিংবা ‘এমনি ফ্রেন্ড’ দ্বারা অ্যাবিউজড হওয়া ফেমিনিস্ট।

এরাও অ্যাবিউজড হওয়ার পর পুরুষ-বিদ্বেষ থেকেই ফেমিনিজমে নাম লেখায়। তবে, এক্ষেত্রে অ্যাবিউজড হওয়ার সুযোগটা এরা নিজেরাই তৈরী করে দেয়। এরা এটা স্বীকার করবে না যে এ সুযোগ তার নিজের তৈরী করে দেওয়া। তারা এখানে যুক্তি দেখাবে, “একটা মেয়ে কি করে চাইবে যে কেউ তাকে হ্যারাস করুক? এটা কেমন কথা?” আর এসব বলে তারা সিম্প্যাথি নেওয়ার চেষ্টা করবে, এবং এমন একটা ভাব ধরবে যেন সব দোষ পুরুষের, পুরুষ মানেই খাদক, পুরুষের কাছে নারী মানেই খাদ্য।

এরা ফেমিনিজমে আসার পর থেকে ক্রমাগত পুরুষ-বিদ্বেষ ছড়িয়েই যাবে। ‘পুরুষ মানেই ধ্বর্ষক’ এমন একটা প্রচারণা প্রায়ই এদের কাছ থেকে পাওয়া যায়।

৩. লিবারেল ফেমিনিস্ট।

এরা হচ্ছে হাই-ক্লাস ও এলিট-ক্লাস ফ্যামিলি থেকে আসা বাবার আদরের খুকুমনি। গায়েপায়ে অশ্বেতাঙ্গ হয়েও চিন্তা-চেতনা ও পোশাক-পরিচ্ছদে পশ্চিমা সংস্কৃতি ধারন করে দিনরাত সেক্যুলারি ভাবনায় আর অসংযত যৌন ফ্যান্টাসিতে ভুগে একপর্যায়ে এরা হয়ে ওঠে ‘নারী-স্বাধীনতার’ মুক্তির দূত। এদের কাছে ‘স্বাধীনতা’ মানে স্বেচ্ছাচার, নারী যেখানে খুশি যাবে, যা খুশি পরবে, যার সাথে খুশি ঘুরবে, যার সাথে খুশি ‘ইয়ে’ করবে ইত্যাদি।

এদের প্রাথমিক সাপোর্টটা এদের ফ্যামিলি থেকেই আসে। এরা অপর লিঙ্গের ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরাঘুরি করলে, পার্কে গেলে, রেস্টুরেন্টে গেলে এদের বাবা-মা উল্লসিত হয়ে ওঠে আর ভাবে, যাক ছেলেটা (বা মেয়েটা) মানুষের সাথে কম্যুনিকেশন স্কিল (!) ডেভেলপ করছে। এরা দুয়েকটা ছেলে বন্ধুকে (বা ছেলে হয়ে মেয়ে বন্ধুকে) বাসায় নিয়ে গেলে এদের বাবা-মা খুব আদরযত্নে তাদের আপ্যায়নও করে থাকেন। আরও বলেন, “ও! তোমার বন্দুউ! তা যাও, তোমরা ঘরে গিয়ে গপ্পো করো, আমি তোমাদের জন্য চা-নাস্তা নিয়ে আসতেছি।” উরিই বাবা!!

৪. সেক্সুয়ালি ফ্রাট্রেটেড ফেমিনিস্ট।

রূপ-সৌন্দর্য কিংবা শারীরিক অন্য কোনো কারণে এরা মানুষের ‘নজর কাড়তে’ ব্যর্থ হয়, ফলে খানিকটা হতাশ হয়, আর সেই হতাশা নিয়ে তারা যোগ দেয় নারীবাদে। এরাও পুরুষ-বিদ্বষী, এমনকি কখনও কখনও এদের বিদ্বেষটা স্বয়ং আল্লাহর উপর গিয়েও পড়ে। কেন আল্লাহ তাকে অসুন্দর করেছেন, কেন আল্লাহ তাকে এইএই গুণ দেননি… ইত্যাকার আপত্তি তুলে তারা ভাবেন আল্লাহ তার উপর অন্যায় করেছেন। নাস্তিকতায় যোগ দেওয়া বেশিরভাগ নারী-ই লিবারেল ও সেক্সুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড ক্যাটেগরীর ফেমিনিস্ট।

এদের আচরন অনেকটা লেজকাটা শিয়াল এর মত। শিয়াল যেমন নিজের লেজ কাটা পড়ায় বাকি শিয়াল গুলোকেও লেজ কেটে ফেলার আহ্বান জানিয়েছিল, এরাও তেমনি নিজেরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে সেখানে যাতে অন্য নারীরাও যেতে না পারে সেই প্রোপাগাণ্ডা চালায়। (বিস্তারিত একটু পর বলছি)

৫. ক্যারিয়ারিস্ট ফেমিনিস্ট।

এরা মনে করে পুরুষজাতি-ই নারীর ক্যারিয়ারের প্রতি মূল বাধা। তাই এরা পুরুষদেরকে গালি দেওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেমিনিজমকে বেছে নেয়। তাছাড়া, ঘর ছেড়ে ফেমিনিস্ট হতে পারলে পোশাকের স্বাধীনতা খুব সহজেই পাওয়া যায়, যেটা ক্যারিয়ার গঠনে একান্ত সহায়ক।

এদের কাছে নারীর মূল্য নির্ধারিত হয় সে চাকরি করতে পারছে কি না তার উপর, টাকা কামাই করতে পারছে কি না তার উপর। এরাই সাধারণত বাসায় বাচ্চা রেখে ক্যারিয়ার পূজোয় লিপ্ত হয়। আর এদের বাচ্চা-কাচ্চাদের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয় বুয়াসুলভ আচরণ।

৬. নারীকামী নারীবাদী

এরা হচ্ছে পুরুষ নারীবাদী। এরা নারীর অধিকারের কথা বলে নারীদের কাছ থেকে সুযোগ নিতে চায়। এদের ধান্ধা থাকে— নারীর অধিকারের পক্ষে কথা বললে নারীরা হয়ত তাকে খুব কিউট ভাববে, অতঃপর কোনো একদিন প্রকাশ্যে অফার দিয়ে বসবে, “তুই চুল করে দে এলোমেলো, ভেঙে দে না চুড়ি” এহেম এহেম!!

নারীবাদী পুরুষগণকে নারীর পোষাকের স্বাধীনতা নিয়ে বেশ সোচ্চার থাকতে দেখা যায়। “নারী কি তার পছন্দমত পোষাক পরবে না?” নইলে আমরা তাদেরকে দেখে চোখের ক্ষুধা মিটাবো কী করে!

যাইহোক….. আমরা বিভিন্ন ক্যাটেগরীর নারীবাদী দেখলাম।
বৃহৎ স্কেলে নারীবাদের কারণ হিসেবে—

— নারীর প্রতি পরিবার ও রাষ্ট্রের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার অভাব
— নারীমনে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও প্রাধান্য বিস্তার
— ‘ক্যারিয়ার ব্যাতীত নারী মূল্যহীন’ এমন ধারণার বীজ বপন
— ব্যাপক হারে সেক্যুলারাইজেশন ও ইসলামোফোবিয়ার সৃষ্টি
…… ইত্যাদি কারণগুলোকে বড় করে দেখা যায়।

এবার আমরা নারীবাদের প্রপাগান্ডা, হিপোক্রিসি এবং তাদের কর্মপদ্ধতিসমূহ দেখার চেষ্টা করবো, উদাহরণসহ।

১. কমেন্টের প্রথম ছবিটি খেয়াল করুন। ডান পাশের মেয়েটি রাহাফ, যিনি সৌদির নাগরিক। (চোখের পর্দা রক্ষার্থে ব্লার করে দেওয়া দিলাম) পর্দার বিধান ও ইসলাম নিয়ে সমালোচনার কারণে যখন শাস্তির মুখে পতিত হচ্ছিল তখন আন্তর্জাতিক মিডিয়া, নারী অধিকার সংগঠন, Human Rights রাহাফের পাশে দাঁড়ায়, তাকে কানাডায় শরণার্থী হতে সহায়তা দেয়।

বাম দিকের নারীটি ফিলিস্তিনের একজন স্কুল শিক্ষিকা যাকে ইজরাঈলী সৈন্যরা গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে, ঐ নারীটির চারটি শিশু কন্যাও ছিল বর্বর ইজরাঈলী সৈন্যরা কোনো কিছুই তোয়াক্কা করলো না। এই নারীটির পাশে নারী অধিকার সংগঠন, Human Rights, আন্তর্জাতিক মিডিয়া BBC, Al Jazeera কেউই দাঁড়ায়নি।

কেন সেটা বুঝেছেন তো?
এখনও না বুঝলে আরেকটু তথ্য দিই। এই রাহাফ কানাডায় গিয়ে স্বাচ্ছ্যন্দ্যে বিকিনি পরে ঘুরে বেড়াতে পারে। এবং এভাবে সে নিজেকে স্বাধীন মনে করতে পেরে খুব গর্ব করে বলেছে— The biggest change in my life… from being forced to wear black sheets and being controlled by men to being a free woman. [১]

২. নারী ক্ষমতায়নের প্রভাব তুলে ধরতে যুক্তরাজ্যের ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, They are powerful and influential in the workplace, so they are not going to taking any nonsense at home. স্পষ্টতই সাংসারিক জীবনটা যে নারীর জন্য ‘আহাম্মকি’ এটাই প্রমাণ করে এই বক্তব্য।

এই প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যের অন্যতম ডিভোর্স লয়ার Marilyn Stowe এর মতে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর নারী সাংসারিক জীবন অসুখী হওয়া মাত্রই খুব সহজে সংসার ত্যাগ করতে পারে। [২]

এ থেকে বুঝা যায়, একটা সংসারকে শক্ত করে ধরে রাখার মন মানসিকতা কর্মজীবী নারীদের মাঝে কম থাকে। ভাল লাগলে থাকলাম, না লাগলে গেলাম। অর্থাৎ, পারিবারিক বন্ধনের প্রতি বিন্দুমাত্র দায়িত্বশীল থাকার প্রয়োজন বোধ করে না এরা।

একদিকে পুরুষের অবহেলার জন্য নারীরা বিরক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে স্বনির্ভরতার জন্য তারা সংসার টিকিয়ে রাখারও প্রয়োজন মনে করছেন না। কিছুক্ষেত্রে নারীদের স্বেচ্ছাচারে বিরক্ত হয়ে পুরুষরা ডিভোর্স পেপার জমা দিচ্ছে, আবার কিছুক্ষেত্রে নারীরাও ‘ভাল্লাগেনা তাই থাকলাম না’ অযুহাতে ডিভোর্স পেপার জমা দিচ্ছে। তবে এইক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে। এমনই এক প্রতিবেদন এসেছে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর পাতায়।

সেখানে এক জরিপের তথ্যানুসারে দেখানো হয়েছে, ডিভোর্স পেপার জমা দেওয়াদের ৭০.৮৫% হচ্ছেন নারী, আর ২৯.১৫% হচ্ছে পুরুষ। ২০০৬ সালে যেখানে প্রতি হাজারে বিচ্ছেদের হার ছিল ০.৬% এবং ২০১৮ সালে এ হার ১.১%। বিচ্ছেদের আবেদনকারীদের মধ্যে যারা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন তাদের সংখ্যা হাজারে ১.৭% জন এবং অশিক্ষিতের সংখ্যা ০.৫% জন

২০১৬~১৮ এই পাঁচ বছরের জরিপানুযায়ী, ঢাকায় তালাকের মোট আবেদনের ৬৬.৬% স্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং ৩৩.৮৪% স্বামীর পক্ষ থেকে এসেছে। এই জরিপকালীন চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তালাকের নোটিশ পাওয়া গেছে ১৯৮ টি যার মধ্যে নারীরা দিয়েছেন ১৪২ টি।

এই প্রতিবেদনের শেষে ঢাবির সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকায় একজন নারী এখন তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে পারছে। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে অনেক নারী নিজের পেশাজীবনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ফলে নারী নিজেই এখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। [৩]

আজ পর্যন্ত কোনো নারীবাদীকে দেখা যায়নি কোনো নারীর ভেঙে যাওয়া সংসার জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিংবা পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করার চেষ্টা করেছে। বরং তারা কিছু একটা ইস্যু পেলেই পুরুষের উপর নারী নির্যাতনের ট্যাগ লাগিয়ে নারীকে উস্কে দেয় ডিভোর্স দেওয়ার জন্য। এভাবে নারীবাদীরা সংসার গুলো নষ্টই করে যাচ্ছে শুধু, সংসারটাকে সুখী করার জন্য তেমন কোনো কাজ করছেনা।

৩. কোনো এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা হযরত শেখ হাসিনা বলেন, প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কে? ইসলাম ধর্ম প্রচারে প্রথম সহায়তা কে করেছিলেন? তিনি বিবি খাদিজা (রা.)। মহানবী (সা.) যখন ইসলাম ধর্ম প্রচার করছিলেন, তখন তো তিনিই এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি সব সম্পদ দিয়ে দিলেন ধর্ম প্রচারের জন্য। সেই বিবি খাদিজা (রা.) ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। উটে চড়ে ব্যবসার জন্য দেশে দেশে যেতেন। কাজেই মেয়েদের ধর্মের নামে ঘরে আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। [৪]

উনি উটে চড়ে ব্যবসার জন্য দেশে দেশে যেতেন? উম্মুল মু’মিনিন-এর গর্বধারিনী মায়ের নামে এতবড় অপবাদ! এতবড় মিথ্যাচার!!! তাছাড়া উনি ‘ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে’ সব সম্পদ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন? নাকি ওহী নাযিল হওয়ার অনেক আগেই, কুরাইশদের আপত্তির জবাবে নিজের সব সম্পদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিয়ে দেন? তিনি কি আদৌ জানেন এ ব্যাপারে?

এনারা এভাবেই স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ইসলামের একজন সম্মানিত নারীর নাম ব্যাবহার করে নিজেদের চিন্তা-চেতনা ‘বৈধ’ হিসেবে অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চান। আর ইসলাম সম্পর্কে কম জানা নারীরাও এসব শুনে আহ্লাদে বাকবাকুম বাকবাকুম করতে থাকে।

অথচ রাষ্ট্র নারীদেরকে কী দিয়েছে? শুধু চাকরির লোভ দেখিয়ে রাস্তায় টেনে এনেছে, তাদের পর্দাকে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু নারীকে প্রোটেকশন দেয়নি। কখনও শুনেছেন একটা ধ্বর্ষকের ফাঁসি হয়েছে? মিনিমাম একটা? শোনেন নি!

আরেক সম্মেলনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, ‘কোনো ধর্মেই নারীদের কর্মে নিষেধ নেই। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ধর্ম বা সমাজের দোহাই দিয়ে মেয়েদের পিছিয়ে রাখা হয়। মেয়েরা যে হারে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, সেই হারে কর্মে আসতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ওপর রাষ্ট্র কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তাই তোমাদের কর্মমুখী হওয়া দরকার। কোনো ধর্মেই নারীদের কর্মে বাধা নেই। যারা এই বাধা-নিষেধ দিচ্ছে তারা মেয়েদের পিছিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।’ [৫]

“মেয়েরা যে হারে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে, সেই হারে কর্মে আসতে পারছে না” কথাটি দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষার আল্টিমেট উদ্দেশ্য তোমাকে কর্ম-করিতে-হইবে। তুমি যদি কর্ম না কর তাহা হইলে তোমার পিছে রাষ্ট্র এত কষ্ট করিয়া এতএত অর্থ ব্যয় করিলো কেন?? রাষ্ট্র তোমার পিছে অর্থ ব্যয় করিয়াছে হেতু তুমি তোমার পরিবারের দাসী হইয়া থাকিতে পারিবানা, তোমাকে কর্পোরেট দাসী হইয়া থাকিতে হইবে। আমার খেয়ে আমার পরে স্বামীসেবা? তা হবেনা!

৪. নারীবাদ যে নারীদেরকে ফুঁসলিয়ে ফুঁসলিয়ে শুধু রাস্তায়ই নামাচ্ছে তা নয়। এরা রীতিমত নাস্তিকতার প্রপাগান্ডাও হরদম চালাচ্ছে।

উপরে বর্ণিত লিবারেল ফেমিনিস্টগণের পোষাকের স্বাধীনতা নিয়ে চিল্লাচিল্লি করার আল্টিমেট পরিণতি হচ্ছে নাস্তিকতা। ‘কেন নারী তার পছন্দসই পোষাক পরতে পারবে না? কেন নারীকে পর্দা মেইনটেইন করতেই হবে? কেন নারীকে কালো কাপড়ের বস্তা পরে থাকতে হবে? ধর্ম মানেই বর্বর। ধর্ম নারীকে স্বাধীনতা দেয় না। ধর্ম মেনে চললে নারী তুমি স্বাধীন হতে পারবা না। তাই তোমাকে ধর্ম ত্যাগ করতে হবে।’

নারীবাদীদের এক পোর্টালে লেখা হয়েছে, ‘আমি মনে করি পৃথিবী জুড়ে সমস্ত নারীর উচিৎ ধর্ম নামক নোংরা, অশ্লীল, বিষাক্ত জিনিসটিকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া।’ [৬]

আরেকটি জনপ্রিয় নারীবাদী পোর্টালে ‘নারীর কোনো ধর্ম নেই’ শিরোনামে একটা লেখা ছাপা হয়েছে। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে ধর্ম কিভাবে নারীদেরকে শোষণ-প্রেষণ করেছে সেই চিত্র।

‘আদম শ্রেষ্ঠ, তার গায়ে কালিমা লেপন করা যাবে না, বেহেশত থেকে তার বের হওয়ার পেছনে পুরো দায়ভার হাওয়ার। তাই নারী মাত্রেই পাপী, তার পাপের ভার বেশি, জাহান্নামে তাদের সংখ্যাও বেশি।’

ওখানে আরও বলা হচ্ছে, ‘(ধর্মমতে) সে শয়তানের বাহন, বিষধর সাপ, ছলাকলার অধিকারী ও পুরুষে লালসা উদ্রেককারী। নদী সে, যেখানেই তার উৎপত্তি হোক, হাজারো বাধা ডিঙিয়ে সমুদ্রে তার স্বস্তি। আজ থেকে হাজার বছর পূর্ব থেকে প্রাধাণ্যবিস্তার করা পুরুষতান্ত্রিক ধর্মগুলো ঠিক তেমনি নারীর অবস্থানের দিকে এক সুতোয় মিলিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই কবরস্থানে নারীর প্রবেশাধিকার নেই, সে অশুচি, পিরয়ডের সময় ধর্ম তাকে ত্যাগ করে এবং জাহান্নামের বাসিন্দাদের অধিকাংশই নারী।’ [৭]

জ্বি, এহেন হাস্যকর, অজ্ঞতাপূর্ণ, বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা লিখেই নারীবাদীগণ অন্যান্য সরলমনা নারীদের ব্রেইন ওয়াশ করে থাকেন, নারীর মাথায় খুব সুন্দর করে ধর্মবিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেন। আর যে সকল ললনাগণ ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় জ্ঞান বিবর্জিত, তারা অনায়াসেই নারীবাদীদের টোপ গিলে ফেলেন, হয়ে পড়েন নাস্তিক, মুর্তাদ ইত্যাদি।

নারীবাদী পোর্টালের আরেকটা আর্টিকেলে যে ভয়াবহ মিথ্যাচার করা হয়েছে তা দেখে আমি মিনিট খানেকের জন্য তব্দা খেয়ে বসে ছিলাম। ওখানে এক ‘বিশিষ্ট’ নারীবাদী-নারীবিদ লিখেছেন, ‘মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সুয়াদ সালেহ বলেছেন— আল্লাহ মুসলমানদের অমুসলিম নারীদেরকে ধ্বর্ষণের অনুমতি দিয়েছেন; কোনো মুসলিম পুরুষ চাইলে দাসীদের সঙ্গেও যৌন সম্পর্ক করতে পারবে, এটা বৈধ। মুসলিমদের সঙ্গের শত্রুপক্ষের যুদ্ধের সময় মুসলিম পুরুষরা অমুসলিম নারীদের ধ্বর্ষণ করতে পারবে; যুদ্ধবন্দী নারীরা মুসলিম সেনাপতিদের সম্পত্তি।’

এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি কোনো রেফারেন্স সংযুক্ত করেননি। তাই এটা একাধারে ব্যাক্তির উপর মিথ্যাচার, ধর্মের উপর মিথ্যাচার, আল্লাহর উপর মিথ্যাচার।

তিনি সেই আর্টিকেলের এক পর্যায়ে লিখেছেন, ‘মুসলমানরাই দায়ী তাদের নিজেদের ধ্বর্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। যেই ধর্মে শয্যায় অনিচ্ছুক স্ত্রীকে পেটানোর অধিকার দেওয়া হয়, দাসীর সাথে যৌনাচার বৈধ করা হয়, যুদ্ধে বিপক্ষের নারীদের সম্পত্তির মত ভাগ বাটোয়ারা করে ভোগ করা বৈধ বলা হয় সেই ধর্মের মানুশ ধ্বর্ষক হবে না তো কী হবে?’ [৮]

সুস্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এসব নারীবাদী পোর্টাল গুলোতে কী পরিমাণ ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। ধর্মের একটা কথা ঘুরিয়ে পেচিয়ে নেগেটিভ ভাবে উপস্থাপন করে কিভাবে ব্রেইনওয়াশ করতে হয় সে ব্যাপারে এরা সিদ্ধহস্ত।

৫. বলছিলাম সেক্সুয়ালি ফ্রাস্ট্রেটেড নারীগগনের আচরণ লেজকাটা শেয়ালের মত। কীভাবে?

কমেন্টে একটা ছবি অ্যাড করেছি দেখেন। সেখানে খুব সুন্দরভাবে নারীকে বিয়ের জন্য অনুৎসাহিত করা হয়েছে। ‘বিবাহ’ জিনিসটা যে সমাজের একটা অহেতুক অপ্রয়োজনীয় বিষয়, এটা যে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর, সেটা খুব চমৎকারভাবে উদাহরণ সহ দেখানো হয়েছে।

বস্তুত, তাদেরকে কেউ বিয়ে করেনা। তাই ওরা হিংসায় জ্বলে যায়। এমন প্রোপাগান্ডা ছড়ায় যেন অন্য কেউ বিয়েতে উৎসাহিত না হয়।

নারীবাদীদের মাঝে এরকম একটা প্রচারণা প্রায়ই শোনা যায়— বিয়ের আগে পাত্রকে দুয়েকবার ‘পরখ’ করে নেয়া ভাল, নইলে বিয়ের পরে জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। সারাজীবন হতাশা নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া লাগবে।

পরখ মানে…. বুঝলেন কিনা…. এহেম!
তো যাইহোক! এরা এমন পরখ করে নেওয়ার সুবুদ্ধি (!) দেয় যাতে পরখ করা হয়ে গেলে পাত্রেরও সাধ মিটে যাবে, সে নতুন কাউকে খুজবে, ওদিকে মেয়েটারও আর বিয়ে করা হবে না। এভাবে সে নিজে তার সতীত্ব হারাবে, এবং পরবর্তী জীবনেও লাঞ্চনার শিকার হবে। মানে সোজা কথা, নষ্টামির যে যে আইটেম আছে সবকিছুই নারীবাদীদের অ্যাপ্লাই করা হয়ে গেছে।

ওরা এমনটা কেন করে? কারণ, ওরা নিজেরাও জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নিজের দোষে নিজের ফ্রেন্ড দ্বারা হ্যারাস্‌ড হয়েছে। তাই তারা অন্য নারীরও ভাল চায় না।

ওরা চায় না কোনো নারী সংসার করুক, তাদের একটা সুন্দর ফ্যামিলি হোক, তাদের বাচ্চাকাচ্চা বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে লালিতপালিত হোক। এজন্যই দেখবেন ওরা বিবাহ-বিরোধী অসংখ্য প্রচারণা অব্যহত রাখে।

ওরা বাল্য বিবাহ দেখামাত্র কাঁকড়ার মত কামড়াতে চলে আসে। কিন্তু ওদের কাছে বাল্যপ্রেম হালাল, অবৈধ সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া অবৈধ বাচ্চা বনে, জঙ্গলে, ড্রেনে ফেলে রাখাটাও ওদের কাছে বৈধ। কিন্তু ১৮ বছরের আগে কেউ বিয়ে করেছে এমন খবর শোনামাত্রই এরা কামড়াতে চলে আসবে।

(চলবে….)

লেখকঃ Ruhul Kabir
———

রেফারেন্সঃ
[১] https://metro.co.uk/2020/02/05/saudi-teen-fled-canada-abused-daring-wear-bikini-12183962/amp/
[২] https://www.independent.co.uk/news/uk/this-britain/working-women-more-likely-to-seek-divorce-5346460.html
[৩] https://www.bd-pratidin.com/amp/last-page/2018/01/09/295890
[৪] https://sarabangla.net/post/sb-334036/
[৫] https://www.odhikar.news/national/120930
[৬] https://www.nari.news/post/narir-farzana
[৭] feministfactor.com/1991/
[৮] https://womenchapter.com/views/13530

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started